সুখেন্দু পাল, বধর্মান: রান্না করার সময়ও গৃহিণীদের নজর থাকছে রিলসের দিকে। রান্নার থেকে নতুন কনটেন্টেই বুঁদ হচ্ছেন অনেকে। রেগুরেলটর বন্ধ করতে তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন। কখনও কখনও ওভেনও ঠিকমতো বন্ধ হচ্ছে না। ফলে গ্যাস লিক করে দুর্ঘটনার ঘটনা বাড়ছে। সম্প্রতি বীরভূম, বাঁকুড়া সহ বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস লিক হয়ে হয়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রয়ত্ত সংস্থাগুলি। তারা বাড়ি বাড়ি প্রচারে জোর দিয়েছে। ‘রিলসের থেকে জীবন বড়’-সেই বার্তা তারা ছড়িয়ে দিতে চাইছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে সিউড়িতে গ্যাস লিকেজ হয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় ছ’জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই ঘটনার পরই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি সতর্কতায় জোর দিয়েছে। সংস্থাগুলি জানিয়েছে, সিলিন্ডার থেকে ছ’ইঞ্চি উপরে ওভেন রাখতে হবে। সিলিন্ডার সব সময় সোজা করে রাখা দরকার। রান্নার সময় অন্য কোনও কাজ করা যাবে না। ওভেনের দিকে নজর দেওয়া উচিত। সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ করে রাখতে হবে। রান্নাঘরে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে ইলেক্ট্রিকের সুইচ, লাইটার বা দেশলাই জ্বালানো উচিত নয়। গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে জানালা, দরজা খুলে দিতে হবে। ডেলিভারি বয়ের কাছ থেকে সর্বদা নতুন সিলিন্ডার চেক করে নিতে হবে। কোনওরকম সমস্যা দেখা দিলে ১৯০৬ নম্বরে ফোন করে জানাতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার এক আধিকারিক বলেন, রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই সচেতনতামূলক প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিলাররা নিজেদের উদ্যোগে এই কাজ করবেন। প্রয়োজনে বাজার বা জনবহুল কোনও এলাকায় ক্যাম্প করে প্রচার চালাবেন। অনেকেই জানেন না গ্যাস লিক হয়ে গেলে কী করা দরকার। হঠাৎ করে এরকম ঘটনা হলে তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।
শক্তিগড়ের এক ডিলার রাজীব ভৌমিক বলেন, আমরা লাগাতার প্রচার করে আসছি। কীভাবে ওভেন বা সিলিন্ডার ব্যবহার করা উচিত তা তাঁদের বুঝিয়ে বলা হচ্ছে। গ্রাহকদেরও আরও সচেতন হতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় রান্না করতে করতেই গৃহিণীরা মোবাইল দেখছেন। ঠিকমতো ওভেনের নব বন্ধ হচ্ছে কি না সেটাও তাঁরা লক্ষ করেন না।
রাষ্ট্রয়ত্ত সংস্থাটি জানিয়েছে, দুর্ঘটনা হলে পরিবারের লোকজন বিমার সুবিধা পান। এমনকী, রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই খরচও পাওয়া যায়। বাঁকুড়া এবং বীরভূমের কয়েকজনকে বিমার টাকা দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে।
তবে, আধিকারিকরা বলেন, দুর্ঘটনা যাতে না হয় সেই দিকটাই সকলকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। গ্রাহকরা একটু সচেতন হলেই নিরাপদে থাকতে পারেন। রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হলে বাড়িতে থাকা সকলেরই জখম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অগ্নিদগ্ধদের বাঁচানো সহজ হয় না। সেই কারণে নিজেদের স্বার্থেই নিরাপদ থাকা দরকার।