জি-বাংলার ‘পরিণীতা’র শ্যুটিং সেটে সেদিন জমেছিল আড্ডা। দুই চরিত্র ‘পারুল’ এবং ‘সংযুক্তা সেন’ ক্যামেরার বাইরে আসলে কেমন? মুখোমুখি সাক্ষাৎকারে জানালেন ঈশানী চট্টোপাধ্যায় এবং রূপসা চট্টোপাধ্যায়।
জি-বাংলার ‘পরিণীতা’র শ্যুটিং সেটে সেদিন জমেছিল আড্ডা। দুই চরিত্র ‘পারুল’ এবং ‘সংযুক্তা সেন’ ক্যামেরার বাইরে আসলে কেমন? মুখোমুখি সাক্ষাৎকারে জানালেন ঈশানী চট্টোপাধ্যায় এবং রূপসা চট্টোপাধ্যায়।
টেলিভিশনের পর্দায় তো আপনাদের ভীষণ লড়াই?
ঈশানী: (হাসি) ভীষণ টক্কর দু’জনের।
রূপসা: কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। মারপিটও হয়ে যেতে পারে।
আর অফস্ক্রিন কেমিস্ট্রি?
ঈশানী: অনস্ক্রিন যতটা টক্কর দেখেন দর্শক, অফস্ক্রিন সম্পর্ক ততটাই ভালো। রূপসাদির থেকে ওর ছেলে ডুগ্গুর গল্প শুনতেই থাকি।
রূপসা: মেকআপরুমটা খুব মজার জায়গা। টিমের বেশিরভাগ সদস্যই প্রায় সমবয়সি। সেজন্য বন্ডিংটা ভালো। আমাদের পরিচালক কৃশ জানে কতটুকু করলে দর্শকের দেখতে ভালো লাগবে। আর কতটুকু কোন অভিনেতাকে দিয়ে করানো যাবে।
ঈশানী: (হাসি) চা ছুড়ে মারা, বিষ মিশিয়ে দেওয়া— এসব দৃশ্যে অভিনয় করতে আমরা মজা পাই।
ধারাবাহিক এখন কম সময়ে শেষ হয়ে যায়। সেই টেনশন কি আপনাদেরও কাজ করে?
ঈশানী: আমরা কেউ বন্ধ হয়ে
যাওয়া নিয়ে ভাবি না। কনটেন্টের উপর ভরসা রাখি। পারফর্ম করি। টিআরপি একদিন উঠবে, একদিন নামবে। ওটা নিয়ে ভাবলে কাজটা করতে পারব না। শুরু হলে শেষ তো হবেই।
রূপসা: এই টিমটাই খুব পজিটিভ। এটা ফ্লোরে ঢুকেই বোঝা যায়। (ঈশানীকে দেখিয়ে) ও যে কথাটা বলল, এই পজিটিভ মনোভাবই তো আসল। ঈশানীর এটা প্রথম ধারাবাহিক। সেই হিসেবে ওর উপর চাপ বেশি। আমার প্রথম ধারাবাহিক ছিল ‘এরাও শত্রু’। সেটা সাত বছর চলেছিল। আমি শেষ দু’বছর অভিনয় করেছিলাম। তারপর ‘অগ্নিপরীক্ষা’। সেটাও পাঁচ, ছ’বছর চলেছিল। এখন তো আর এই পরিস্থিতি নেই।
ঈশানী: এবার ‘পরিণীতা’ সেই রেকর্ড করবে (হাসি)।
মা হওয়ার পর কাজ এবং পরিবারের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করছেন রূপসা?
রূপসা: এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আমার পরিবারের। ছেলের এক বছর বয়স হবে আর কয়েকদিনের মধ্যে। শ্বশুর, শাশুড়ি, মা, বাবা এবং বরই সবটা সামলে নেয়।
প্রথম ধারাবাহিকের পর ঈশানীর গত এক বছরে জীবন কতটা বদলেছে?
ঈশানী: এখন ঈশানীর মা, দিদা, জেঠু বলে কেউ ডাকে না। সবাই পারুলের (চরিত্রের নাম) মা, দিদা, জেঠু— বলে। আমার ডাকনাম পায়েল আর নেই। এখন সকলে পারুল বলে ডাকে।
কম সময়ে প্রস্তুতি নেন কীভাবে?
ঈশানী: ফ্লোরে যাওয়ার আগে একবার রিডিং পড়ে নিই। প্রথমদিন অত বুঝতে পারিনি। একটু বকুনি খেয়েছিলাম। পরের দিন থেকে বুঝতে পারি, কীভাবে করতে হয়। তাই আর অসুবিধে হয়নি।
সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট প্রভাবিত করে?
রূপসা: আমি যখন থেকে কাজ করছি তখন সোশ্যাল মিডিয়ার এই প্রভাব ছিল না। এখন যা পরিস্থিতি, আমরা সোশ্যাল মিডিয়াকে নানা ভাবে ব্যবহার করতে পারি। সেটা সাহায্যও করে। তবে নেগেটিভ কমেন্ট একেবারেই প্রভাব ফেলে না।
ঈশানী: শুরুর দিকে নেগেটিভ কমেন্ট পড়লে খারাপ লাগত। তারপর টিমের সকলে আমাকে বসে বুঝিয়েছে। নানা রকম মন্তব্য থাকবে। দুটোই মেনে চলতে হবে। গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করা যায়। কিন্তু বাদবাকি জিনিস প্রভাবিত করে না।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য