পাটনা: আত্মসমর্পণের পরও খুন! বিহারে সমাজকর্মী ভরতভূষণের এনকাউন্টারে মৃত্যু নিয়ে এমনই অভিযোগ তুলেছিল তাঁর পরিবার। বিরোধীরাও এই অভিযোগে সরব হয়। চাপে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। তাতে গ্রেপ্তার করা হল ঘটনার মূল অভিযুক্ত এসটিএফ জওয়ান অক্ষয় কুমারকে। অভিযোগ, তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও তিনি হাজির হননি।
ভোজপুর জেলার শাহপুর থানার বিলাউটি গ্রামের সমাজকর্মী ভরতভূষণ তিওয়ারি বিহারে পরিচিত নাম। স্থানীয় সমস্যার সমাধান ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনিক উদাসীনতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো পোস্ট করতেন তিনি। সম্প্রতি ফেসবুকে বন্দুক হাতে একটি তাঁর একটি ভিডিয়ো ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধে। এনিয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুন গ্রামে যায় পুলিশ। ভরত ওই সময় পুলিশের দিকে বন্দুক তাক করে নিজের দাবি তোলেন বলে অভিযোগ। পরের দিন পুলিশ গ্রামে গেলে বন্দুক ফেলে আত্মসমর্পণ করেন ভরত। তার আগে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এরপরই এনকাউন্টারে তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। ভরতের মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল হয় বিহারের রাজনীতি। বিরোধী এবং স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুয়ো এনকাউন্টারে মারা হয়েছে ভরতকে। তাঁর ভাই চন্দন তিওয়ারি বলেন, এনকাউন্টারের সময় তিনিও উপস্থিত ছিলেন। দাবি, নিজের চোখে দেখেছেন প্রথম গুলিটি চালিয়েছিলেন এসটিএফ জওয়ান অক্ষয়। এফআইআরে আরও কয়েকজন পুলিশ আধিকারিকের নাম উল্লেখ করে ভরতের পরিবার। বিষয়টা নিয়ে বিহারজুড়ে আন্দোলন শুরু হলে পদক্ষেপ করতে বাধ্য হন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট। সাসপেন্ড করা হয় চার পুলিশকর্মীকে।