বার্বাডোজ: সেঞ্চুরি হল না! নড়বড়ে নাইন্টিতে পৌঁছানোর ঠিক দিন দশেক আগেই জীবনের ক্রিজে আউট স্যার গ্যারি সোবার্স। শুক্রবার বার্বাডোজের বাড়িতে ৮৯ বছর ৩৫৪ দিন বয়সে প্রয়াত তিনি।
বার্বাডোজ: সেঞ্চুরি হল না! নড়বড়ে নাইন্টিতে পৌঁছানোর ঠিক দিন দশেক আগেই জীবনের ক্রিজে আউট স্যার গ্যারি সোবার্স। শুক্রবার বার্বাডোজের বাড়িতে ৮৯ বছর ৩৫৪ দিন বয়সে প্রয়াত তিনি।
৯০তম জন্মদিন পালনের আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন ক্রিকেটের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার। ছেলে ড্যানিয়েল কিংবদন্তি ক্রিকেটারের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আনেন। সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেট দুনিয়ায় নেমে আসে শোকের ছায়া। ব্যাট-বলের দুনিয়ায় ক্যারিবিয়ান ছিলেন সব বিভাগেই ওস্তাদ। একাধারে দাপুটে ব্যাটসম্যান, অন্যদিকে ভয়ধরানো পেসার, কৌশলী অর্থোডক্স ও রিস্ট স্পিনার এবং দুরন্ত ফিল্ডার। বিশেষ করে ক্লোজ-ইন ফিল্ডার হিসেবে খ্যাতি ছিল বিশ্বজোড়া। সাধে ডন ব্র্যাডম্যান তাঁকে ‘ফাইভ-ইন-ওয়ান ক্রিকেটার’ বলে চিহ্নিত করেন! ১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪, দুই দশকের কেরিয়ারে ৯৩ টেস্টে ৫৭.৭৮ গড়ে কয়েছে ৮০৩২ রান। পাশাপাশি ৩৪.০৩ গড়ে ২৩৫ উইকেট। পুরুষদের ক্রিকেটে আইসিসি সেজন্যই প্রতি বছর সেরা ক্রিকেটারকে তাঁর নামাঙ্কিত পুরস্কার দেয়। শ্রেষ্ঠত্ব শব্দটা যে তাঁকেই বোঝায়।
১৯৫২-৫৩ মরশুমে ১৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক। পরের বছর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক। সেই সময় পরিচিতি ছিল বোলার হিসেবেই। ২৩ বছর বয়সে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাবাইনা পার্কে আসে ৩৬৫ রান। জীবনের তৃতীয় টেস্টই ব্যক্তিগত সর্বাধিক রানের রেকর্ড! যা ১৯৯৪ সালে ভাঙেন স্বদেশীয় ব্রায়ান লারা।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো ওভারে ছয় ছক্কার পয়লা রেকর্ডও তাঁর। আজকের যুগে আইপিলে খেললে যে কী করতেন! কেরিয়ারে ৯৫টি লিস্ট-এ ম্যাচ থাকলেও একটির বেশি ওডিআই খেলেননি। ১৯৭৩ সালে হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে অবশ্য খাতা খোলার আগেই ফেরেন ড্রেসিং-রুমে। বোলিংয়ে নামের পাশে ছিল একটি উইকেট।
সোবার্স মানেই বাইশ গজ ও তার বাইরে অজস্র গল্পগাথা। ঘোড়ার দৌড় দেখতে যাবেন বলে মুম্বইয়ে একবার এক টেস্ট ম্যাচ দ্রুত শেষ করে দিয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে ভোর চারটে পর্যন্ত নাইট ক্লাবে পার্টির পর লর্ডসে সটান ক্রিজে এসে ১৫০ নট আউটের কাহিনীও লোকগাথায় পরিণত। ‘প্লে হার্ড, পার্টি হার্ডার’ ছিল জীবনের মূলমন্ত্র। বিদায়বেলায় টুকরো টুকরো অজস্র স্মৃতি সেজন্যই জুড়ে মালায় পরিণত। সত্যিই তো, স্মৃতিসুধাতেই ভরা থাকল বিদায়ের পাত্রখানি!