রঞ্জন চৌধুরি: লায়োনেল মেসি না কিলিয়ান এমবাপে? নাকি সোনার বুট জেতার দৌড়ে শেষল্যাপে অন্য কেউ বাজি জিতবে? বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচের উপর অনেক কিছুই নির্ভরশীল। শনিবার ভারতীয় সময় রাত আড়াইটেয় ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। এমবাপে বনাম হ্যারি কেন ডুয়েল তো রয়েইছে। একইসঙ্গে, ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁর ফেয়ারওয়েল ম্যাচ। বিদায়ী মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন তিনি। সবমিলিয়ে জমকালো ফুটবলে ঝড় উঠতে পারে মায়ামিতে।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ঝকঝকে ফ্রান্স। এমবাপে, ওলিসেদের চোখ ঝলসানো ফর্ম দেখে বিশেষজ্ঞরা তাজ্জব। এমনকি, সম্ভাব্য ফাইনালিস্টের তালিকায় অনেকেরই বাজি ছিল ফ্রান্স। কিন্তু স্পেনের তিকি-তাকায় সব হিসাব চৌপাট। ম্যাচের পর এমবাপে বিধ্বস্ত। কিছুটা দিশাহীন। ফরাসি তারকার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ গোটা দলের প্রতিচ্ছবি। এই মানসিক ধাক্কা সামলানোই কোচ দেশঁর বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এমবাপে মেজাজে থাকলে রোখা কঠিন। ওর জন্যই কিছুটা এগিয়ে নামবে ফ্রান্স। সর্বাধিক গোলদাতার দৌড়ে রয়েছেন মেসি ও এমবাপে। একটু পিছিয়ে হ্যারি কেন। অংকের বিচারে তাঁরও সম্ভাবনা রয়েছে। সোনার বুট ক্যাবিনেটে ভরতে সবাই তৈরি। ফ্রান্স বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচে এটাই সবচেয়ে বড় ইউএসপি। অতীতেও বেশ কয়েকবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। উদাহরণ নেহাত কম নয়। ২০১০ বিশ্বকাপে টপ স্কোরার ছিল টমাস মুলার। তৃতীয় স্থানের ম্যাচে জাল কাঁপিয়েই বুট জেতে জার্মান স্ট্রাইকার। ১৯৯৮ সালে ডাভর সুকেরের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। ইতালির সালভাতোর স্কিলাচি (১৯৯০) ও ব্রাজিলের লিওনিদাসের (১৯৩৮) নামও তালিকায় উজ্জ্বল। চলতি বিশ্বকাপে শেষ হাসি কে হাসেন সেটাই দেখার। এমবাপের পাশাপাশি হ্যারি কেনের দিকেও নজর থাকবে। কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে পেনাল্টি মিস করেছিল ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার। ১-২ গোলে হেরে ছিটকে যায় থ্রি লায়ন্স। ক্ষতে মলম দিতে কেনের নিশ্চয়ই চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না। বাকি রইলেন টমাস টুচেল। আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক ফর্মেশনের জন্য তাঁর সমালোচনায় মুখর ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড। শূলে চড়ানো বাকি। ফ্রান্সকে বশ মানতে পারলে টুচেল কিছুটা অক্সিজেন পাবেন।