Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘দলে এত দুর্নীতি! চোর বলছে, ডিম ছুঁড়ছে’, আক্ষেপ শর্মিলার

পূর্ব বর্ধমানের সাংসদ শর্মিলা সরকারের দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ। বিজেপিতে যোগদানের খবর। বিস্তারিত জানুন।

‘দলে এত দুর্নীতি! চোর বলছে, ডিম ছুঁড়ছে’, আক্ষেপ শর্মিলার
  • ৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ‘এত দুর্নীতি, এত...! বিশ্বাস করুন, কোনওকিছু পাওয়ার আশার রাজনীতিতে আসিনি। ডাক্তারির চাকরি ছেড়ে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলাম। জয়ীও হই। কিছুদিন যেতে না যেতেই বুঝতে পারি, যে দল ও দলনেত্রীকে ভালোবেসে আমার রাজনীতিতে আসা, সেই দলটি দুর্নীতির পাকচক্রে ডুবে! দলের প্রায় সবাই আদর্শহীন। প্রতিবাদ করার কেউই নেই। এসব আমি মেনে নিতে পারছিলাম না। নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হতো। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। এ ছাড়া আমার কাছে আর কোনো পথ খোলা ছিল না।’—দিল্লি থেকে ফোনে আত্মসমালোচনার সুরে কথাগুলো বলে থামলেন চিকিৎসক  শর্মিলা সরকার। তিনি পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল সাংসদ। 

Advertisement

সোমবার ছিল মমতার তৃণমূলের বিপর্যয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়। বিধানসভার পর লোকসভায়। তাঁর হাতে গড়া দল ভেঙে খানখান সংসদীয় রাজনীতির দুই পীঠস্থানে। ‘দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া’ শর্মিলাও ভাঙনের দলে ভিড়ে  ‘পথ’ খোঁজেন। লোকসভার স্পিকারকে যে ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ’তে যোগ দেওয়ার চিঠি দিয়েছেন, সেই তালিকায় শর্মিলাও রয়েছেন। তার আগে সবাই যান বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাড়িতে। সেখানে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেই বৈঠক থেকে বেরিয়েই ফোনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন পূর্ব বর্ধমানের সাংসদ। 
শর্মিলা রাজনীতিতে একেবারে আনকোরা হলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বেশ পোক্ত হয়ে উঠেছিলেন। বিধানসভা ভোটে রীতিমতো পরিশ্রম করেছেন। দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করেছেন। সাংসদ হিসেবে জেলাতেও যথেষ্ট সময় দিতেন। কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেন। তারপরও দলের একটা গোষ্ঠী তাঁকে অনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল। তা নিয়ে ভোটের বহু আগে থেকেই তাঁর মনে ক্ষোভ জমছিল। ঘনিষ্ঠদের কাছে প্রায়শই বলতেন, ‘এরকম হবে জানলে রাজনীতিতে আসতাম না। সবাইকে সম্মান দিয়ে চলি। অথচ, আমাকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। নামাভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ এমন ক্ষোভ চেপে রেখেও  ভোটের প্রচারে জেলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত চষে বেড়িয়েছেন। কিন্তু, দলের লাগামহীন দুর্নীতিতে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ তাঁর পরিশ্রম সাফল্য পায়নি বলে মত রাজনীতির কারবারিদের। 
এবার অনেকটাই ভারমুক্ত শর্মিলা। এতদিন দলীয় রাজনীতির শিষ্টাচার মেনে তাঁর বিরুদ্ধে লবি করার নেতাদের নাম প্রকাশ্যে আনতে চাননি। এদিন ফোনে রাখঢাক না করেই বলেছেন, ‘পূর্ব বর্ধমান জেলার তৃণমূলের সভাপতি আমাকে ব্যারিকেড করার চেষ্টা করেছিলেন। সব কাজে বাধা দিচ্ছিলেন। নিম্নমানের রাজনীতি আর মেনে নিতে পারছিলাম না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহুবার সে কথা জানিয়েছিলাম। গুরুত্ব দেননি। এত অসম্মান নিয়ে থাকতে পারছিলাম না। এখন হয়তো তৃণমূল নেতারা বলতে পারেন টিকিট না দিলে আমি সাংসদ হতাম না। তাঁদেরকে বলে রাখি, আমি আগে থেকে তৃণমূলের যোগদান করতে চাইনি। আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। দু’দিনের মধ্যে তৃণমূলে যোগ দিই।’ বর্তমান তৃণমূল নেতাদের অবস্থা নিয়েও মুখ খুলেছেন শর্মিলা। বলেছেন, ‘সাংসদ হওয়ার পর কোনো অনিয়ম করেছি, এটা কেউ বলতে পারবেন না। পালাবদলের পর তৃণমূল নেতাদের দেখে মানুষ চোর চোর স্লোগান দিচ্ছে। পচা ডিম ছুড়ে মারছে। দলীয় সাংসদ হিসেবে দেখতে খারাপ লাগছে। মানুষের কত ক্ষোভ জমে থাকলে এজিনিস হতে পারে, তা ভাবতে অবাক লাগে!’
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শর্মিলার বিদ্রোহে পূর্ব বর্ধমানের অনেক তৃণমূল নেতাই এবার চাপে পড়ে গিয়েছে। যাঁরা অন্তত ভালোবেসে দলটা এতদিন করেছিলেন তাঁদের বক্তব্য, একজন দক্ষ সংগঠককে হারাল দল। অল্পদিনেই তিনি দলের একটা বড় অংশের কর্মীর আপনজন হয়ে উঠেছিলেন। তাঁদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শর্মিলা বললেন, ‘সবাই ভালো থাকুন।’

সম্পর্কিত সংবাদ