Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সন্তানরা পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরে, বাইরে আড্ডা জোন অভিভাবকদের

সন্তানরা পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরে, বাইরে আড্ডা জোন অভিভাবকদের
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কারও সারারাত ঘুম হয়নি, কেউ নস্টালজিক। আবার কেউ ঠাকুরঘরেই সময় কাটালেন। মাধ্যমিকের প্রাক্কালে এমনই কেটেছে পরীক্ষার্থীদের বাবা-মায়ের। বিশেষ করে বলতে গেলে মায়েদের। সোমবার ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা হলের ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়ে ঘণ্টা তিনেক ধরে চলল এইসব আলোচনা। মাধ্যমিকের সেন্টার যে স্কুলে পড়েছে, তার বাইরের চত্বর হয়ে উঠেছিল আড্ডা জোন। ফুটপাত থেকে অন্যের বাড়ির উঠোন, সর্বত্র শুধু বাবা-মায়ের ভিড়।
Advertisement
তবে সেই আড্ডার বিষয়বস্তু একেক জায়গায় একেক রকম। সোমবার সকালে গড়িয়াহাট সংলগ্ন কমলা চ্যাটার্জি স্কুলের বাইরে দেখা গেল এমন দৃশ্য। এক ছাত্রীর মা বলছিলেন, ‘জানিস তো! সেই নার্সিংহোমের দিনের কথা মনে পড়ছিল। মনে হচ্ছিল, ওইটুকু মেয়েটাকে বাড়ি এনেছিলাম। আজ সে মাধ্যমিক দিচ্ছে।’ এই শুনেই আর এক মায়ের উক্তি, ‘আমার মেয়ে তো একেবারে চিন্তামুক্ত। আমারই বরং কাল সারারাত ঘুম হয়নি।’ এসব গল্পের মাঝে আর এক জোনে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল আগামী পরীক্ষার দিনগুলোতে কে কী রান্না করে আনবেন। অন্যদিকে, স্থানীয় চায়ের দোকানে আড্ডা শুরু করলেন বাবারা। তাঁদের আলোচনার বিষয় আবার খানিক আলাদা। পরীক্ষা শেষে যে ছুটি পাওয়া যাবে, সেই ছুটিতে কোথায় যাওয়া যায়? সেখানে উঠে এল নানা জায়গার নাম। একেবারে ট্রেনের টাইম টেবল দেখে বাজেটও তৈরি করা হয়ে গেল। কেউ বলেও ফেললেন, এই মাধ্যমিকের পর একটা বড় ট্যুর হবে। তারপর একেবারে উচ্চ মাধ্যমিকের পর বেরব। এর মাঝে আর কোনও বেড়াতে যাওয়া হবে না। কাঠফাটা রোদে ঠায় বসে রয়েছেন বাবা-মায়েরা। পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকা সন্তানদের কথা ভেবে স্বপ্ন বুনছেন তাঁরা। আড্ডা-গল্প শেষে সকলের মুখে মুখে ভেসে ওঠে সেই স্বপ্নের কথা। গড়িয়ার বাসিন্দা শ্যামলী মণ্ডল বলছিলেন, ‘ছেলেমেয়েগুলো বড় হয়ে গেল। একটাই স্বপ্ন, ভালো করে পড়াশুনা করে ভালো মানুষ হোক। যেন ভালো চাকরি পায় একটা।’ উপসংহার পর্বে সেই সিদ্ধান্তেই সকলে সায় দিয়ে উঠল। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ