সিঙ্গাপুর: আলেক্সি শিরভকে হারিয়ে ২০০০ সালে বিশ্বনাথন আনন্দ যখন প্রথমবারের জন্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন, গুকেশ ডোম্মারাজুর তখনও জন্মই হয়নি। তবে শৈশবেই জেনে গিয়েছিলেন ভিশির ঐতিহাসিক কীর্তির কথা। নিজের শহরের কিংবদন্তিকে আদর্শ করে সাত বছর বয়সে দাবা দুনিয়ায় আগমন গুকেশের। পরবর্তীকালে আনন্দকেই পেয়ে যান গুরু হিসেবে। পাঁচবারের বিশ্বসেরার তালিমে উল্কার গতিতে সাফল্যের এভারেস্ট স্পর্শ করলেন গুকেশ। প্রতিভার সঙ্গে আঠারোর স্পর্ধার মিলিত তেজে ঝলসে গেলেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন ডিং লিরেন। ফিডে দাবা বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের অন্তিম ম্যাচে ৫৮তম চালের পর চেন্নাইয়ের তরুণ তুর্কির কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য হন চীনা দাবাড়ু। ১৪ গেমের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ৭.৫-৬.৫ পয়েন্টে শেষ হাসি হাসলেন গুকেশ। আনন্দের পর দ্বিতীয় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পেল ভারত। আর সেটাও সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে বিশ্বজয়ের রেকর্ড গড়ে। ১৮ বছর ৮ মাস ১৪ দিন বয়সে খেতাব জিতে গুকেশ ভেঙে দিলেন গ্যারি কাসপারভের প্রায় চার দশকের পুরনো নজির। ১৯৮৫ সালে রুশ কিংবদন্তি বিশ্বসেরার স্বাদ পেয়েছিলেন ২২ বছর ৬ মাস ২৭ দিন বয়সে।
Advertisement
ডিং লিরেনকে ১১তম গেমে হারিয়ে খেতাবের স্বপ্ন উস্কে দিয়েছিলেন গুকেশ। কিন্তু পরের গেমেই ভারতীয় তরুণকে হারিয়ে সমতায় ফেরেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন চীনা প্রতিদ্বন্দ্বী। এরপর ত্রয়োদশ গেম ড্র হয়। বৃহস্পতিবার নির্ণায়ক ম্যাচে সাদা ঘুঁটির সুবিধা ছিল লিরেনের সঙ্গে। তবু স্নায়ুর চাপে না ভুগে একের পর এক মোক্ষম চালে তাঁকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন গুকেশ। তবুও একটা সময় মনে হচ্ছিল অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হয়তো টাই-ব্রেকারে খেলা টেনে নিয়ে যাবেন চীনের ৩২ বছর বয়সি দাবাড়ু। কিন্তু গেম যত গড়িয়েছে ততই সময়ের চাপে পড়েছেন তিনি। আর তাতেই ৫৫ চালের মাথায় করে বসেন মারাত্মক ভুল। বলা ভালো, সাময়িক বিভ্রান্তিতে নৌকা বিসর্জন দিয়ে নিজের ভরাডুবিই নিশ্চিত করেছেন লিরেন। ৫৮ চালে আত্মসমর্পণের খসড়ায় সই করে হতাশার আঁধারে তলিয়ে যান তিনি। সিঙ্গাপুরের ইকুয়েরিয়াস হোটেলের হল ঘরে গুকেশের চোখে তখন আনন্দাশ্রুর ধারা।
বাবা চিকিৎসক। মা মাইক্রোবায়োলজিস্ট। পারিবারিক সূত্রেই অত্যন্ত মেধাবী গুকেশ। দাবায় হাতেখড়ির এক বছরের মধ্যে অনূর্ধ্ব-৯ এশিয়ান স্কুল দাবা প্রতিযোগিতা জেতেন তিনি। অনূর্ধ্ব-১২ স্তরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা থেকে ক্যাবিনেটে যোগ হয় আরও পাঁচটি সোনা। মাত্র ১২ বছর ৭ মাস ১৭ দিন বয়সে গ্র্যান্ড মাস্টারের যোগ্যতা অর্জন করেন গুকেশ। এক্ষেত্রে তিনি ভারতের সর্বকনিষ্ঠ ও বিশ্বের দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম। ২০১৮ সালে যুব বিশ্বদাবায় চ্যাম্পিয়নের মুকুট ওঠে তাঁর মাথায়। তখনই তিনি বলেছিলেন, সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে চান। সেই স্বপ্নকেই বৃহস্পতিবার বাস্তবের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুললেন গুকেশ ডোম্মারাজু।
বাবা চিকিৎসক। মা মাইক্রোবায়োলজিস্ট। পারিবারিক সূত্রেই অত্যন্ত মেধাবী গুকেশ। দাবায় হাতেখড়ির এক বছরের মধ্যে অনূর্ধ্ব-৯ এশিয়ান স্কুল দাবা প্রতিযোগিতা জেতেন তিনি। অনূর্ধ্ব-১২ স্তরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা থেকে ক্যাবিনেটে যোগ হয় আরও পাঁচটি সোনা। মাত্র ১২ বছর ৭ মাস ১৭ দিন বয়সে গ্র্যান্ড মাস্টারের যোগ্যতা অর্জন করেন গুকেশ। এক্ষেত্রে তিনি ভারতের সর্বকনিষ্ঠ ও বিশ্বের দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম। ২০১৮ সালে যুব বিশ্বদাবায় চ্যাম্পিয়নের মুকুট ওঠে তাঁর মাথায়। তখনই তিনি বলেছিলেন, সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে চান। সেই স্বপ্নকেই বৃহস্পতিবার বাস্তবের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুললেন গুকেশ ডোম্মারাজু।



