স্নান করলে শরীর শীতল হয়। সর্ব্ব সঞ্চারী ব্যান শীতল হতেই অপান সমান প্রাণ উদান সকলই ঠাণ্ডা হয়। প্রাণের স্থিরত্বের সঙ্গে সঙ্গে মনও স্থির হয়। এইজন্য স্নানের পর ধ্যানের কথা বলেছেন। তখন ঋষিগণ ত্রিকাল স্নান করে পরম পুরুষের ধ্যান করতেন। শাস্ত্র সাধকগণের জন্য প্রাতঃ মধ্যাহ্ন সায়াহ্ন ত্রিকাল স্নানের কথা বলেছেন। আজকাল ত্রিকাল স্নান করা শক্ত। অন্ততঃ একবার স্নান ও অন্য দুইবার ভিজে গামছা দিয়ে গা মুছে ফেলে তবে সন্ধ্যা পূজাদি করা উচিত। ক্ষণ ধরে সাধন কর্তে পার্লে সাধনার ফল শীঘ্র পাওয়া যায়।
ক্ষণ ধ’রে সাধনা কি?
আগেই বলা হয়েছে—প্রাতঃ মধ্যাহ্ন সন্ধ্যা নিশি (মধ্যরাত্র) এই চারিটি সময় সাধনার মাহেন্দ্রক্ষণ, প্রাণ তখন স্বতঃই সুষুম্নাভিমুখে গমন করে আপনা আপনি স্থির হয়, সেই সময় ঠাকুরটি সকলের হৃদয়মন্দিরে এসে উপস্থিত হন। যারা সত্য সত্যই ভগবদ্দর্শনপ্রার্থী তাদের কর্ত্তব্য সর্ব্বপ্রযত্নে ওই চারিটি সময়ে জপ ধ্যানাদি করা।
মধ্যরাত্রে বস্লে ভোরে ঘুম ভাঙ্গবে কেন?
প্রথম সাধকের কর্ত্তব্য ভোরে মধ্যাহ্নে ও সায়াহ্নে অন্ততঃ একঘণ্টা ক’রে জপাদি করা তারপর সত্ত্বগুণ বাড়লে নিদ্রা কম হ’য়ে যাবে তখন মধ্যরাত্রে ধ্যান কর্লে ভোরে উঠা যাবে।
নাম কর্তে কর্তেই কি ধ্যান আসে?
হাঁ, নামই মধ্যমায় উপস্থিত হয়ে ধ্যানরূপে পরিণত হন।
প্রাণের কথা আরও বল্বে?
যেমন “কানু ছাড়া গীত নেই” একটা চল্তি কথা আছে তেমনই এই প্রাণ ব্যতীত আর কিছু নেই। এই ভগবান্ প্রাণকে যিনি যে ভাবে উপাসনা করেন তিনি সেই ভাবেই পান। সকলের উত্থানকারী প্রাণকে উক্থ দৃষ্টিতে উপাসনা ক’রে সাধকগণ উক্থরূপী প্রাণের সাযুজ্য সালোক্য প্রাপ্ত হন। পরস্পরের সংযোগকারী প্রাণকে যজুঃ বলে উপাসনা কর্লে উপাসক যজুঃরূপী প্রাণের সাযুজ্য বা সালোক্য লাভ করেন। সমস্ত ভূতের শ্রেষ্ঠতা সম্পাদনকারি প্রাণকে সাম ব’লে উপাসনা কর্লে সামরূপী প্রাণের সাযুজ্য বা সালোক্য প্রাপ্ত হন। দেহঙ্কে ক্ষত হ’তে ত্রাণ করেন ব’লে যিনি প্রাণকে ক্ষত্র ব’লে উপাসনা করেন ক্ষত্ররূপী প্রাণের সাযুজ্য বা সালোক্য প্রাপ্ত হন।
আর যদি প্রাণকে শ্রীভগবান্ ব’লে উপাসনা করেন?
তা’হলে তিনি শ্রীভগবান্কে প্রাপ্ত হন। বাঞ্ছাকল্পতরু নাম তাঁর, যে যা চায় তিনি তাকে তাই দান করেন।
চাওয়ার মধ্যে সর্ব্বশ্রেষ্ঠ কি?
সাক্ষাৎ দর্শন; এই বাসনাটি হৃদয়ে জাগিয়ে রাখ্তে হয়। দর্শন লাভ হলেও যেন দর্শন পিপাসা প্রশমিত না হয়, দর্শনের পর তাঁর আদিষ্ট কর্ম্ম কর্তে কর্তে আবার আবার আবার দেখ্বো এই ভাবনা সর্ব্বদা হৃদয়ে জাগরুক রাখতে হয়। বিচার বা জ্ঞানের অধিকারী বিশেষের প্রয়োজন থাক্তে পারে। ভক্তের প্রয়োজন শুধু দর্শন। দর্শন ছাড়া আর কিছু ভক্ত চাইবেন না।
শ্রীগুরুপ্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘শ্রীওঙ্কারনাথ-রচনাবলী’ (৩য়) থেকে