Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

সোনা বন্ধক রেখে ধার শোধে হিমশিম ২১ শতাংশ বাড়ল অনাদায়ী ঋণ

সোনা বন্ধক রেখে ধার শোধে হিমশিম ২১ শতাংশ বাড়ল অনাদায়ী ঋণ
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নয়াদিল্লি: খাদ্যদ্রব্য সহ জিনিসপত্রের দাম দিন দিন লাফিয়ে বাড়ছে। কিন্তু আম জনতার আয় তার সঙ্গে কিছুতেই তাল মেলাতে পারছে না। ফলে সংসার চালাতে নাভিশ্বাস উঠেছে। খরচ সামাল দিতে ‘ঘরের লক্ষ্মী’ সোনা বন্ধক দিয়ে টাকা জোগাড় করতে বাধ্য হচ্ছেন বহু মানুষ। কিন্তু পরিস্থিতি এতই খারাপ যে, বন্ধকী সোনা ছাড়াতে পারছেন না তাঁদের অনেকেই। বাকি পড়ে থাকছে পরের পর কিস্তি। ফলে ব্যাঙ্কগুলিতে লাফিয়ে বাড়ছে গোল্ড লোনে অনাদায়ী ঋণের (এনপিএ) পরিমাণ। এই হার ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
Advertisement
ঋণগ্রহীতা পরপর তিন মাস কিস্তি দিতে না পারলে সেই অ্যাকাউন্ট এনপিএ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সোমবার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক এবং এনবিএফসিগুলির গোল্ড লোনের উপরে মোট এনপিএ-র হার বে‌঩ড়েছে ১৮.১৪ শতাংশ। শুধুমাত্র ব্যাঙ্কগুলির ক্ষেত্রে যা ২১.০৩ শতাংশ। নির্মলার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মাঝারি মাপের এনবিএফসিগুলির মোট অনাদায়ী ঋণের মধ্যে ২.৫৮ শতাংশই হল গোল্ড লোন। 
দেশে বাড়তে থাকা গোল্ড লোনের চাহিদা নিয়ে ইতিমধ্যে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। এমনকী মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ‘মঙ্গলসূত্র চুরির’ গুরুতর অভিযোগ পর্যন্ত এনেছে কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, খুব বিপদে না পড়লে এদেশে সোনা বিক্রি বা বন্ধক রাখার কথা ভাবে না গৃহস্থ। অথচ মধ্য ও নিম্ন আয়ের লোকজন আরও বেশি করে বাধ্য হচ্ছেন শেষ সম্বল সোনা বন্ধক দিতে। পরিস্থিতি কতটা ‘ভয়াবহ’, তা সামনে এসেছে  আইসিআরএ-র সাম্প্রতিকতম একটি রিপোর্টে। যেখানে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে দেশের সংগঠিত গোল্ড লোন বাজারের আয়তন ছিল ৯ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে তা বেড়ে ১৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ব্যাঙ্ক ও নন-ব্যাঙ্কিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফসি) ছাড়াও নানা জায়গায় বহু মানুষ সোনা বন্ধক রাখেন। সেই হিসেব এর মধ্যে ধরা হয়নি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ