সিওল, ১৪ ডিসেম্বর: গদি টলমল করছিলই। আজ, শনিবার সেই গদি ছাড়তে বাধ্য হলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। দেশে আচমকাই সামরিক আইন লাগু করে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন তিনি। বিরোধী দল থেকে দেশের জনতা সকলেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ইউনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ দেখাতে থাকেন অনেকেই। তারপরেই তড়িঘড়ি সামরিক আইন প্রত্যাহার করে নেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ক্ষোভ কিছুতেই আর প্রশমিত হয়নি। যার ফলে ইউনকে বরখাস্তের দাবি জানিয়ে গত সপ্তাহে সংসদে ভোটাভুটির প্রস্তাব আনেন বিরোধী দলের আইন প্রণেতারা। যদিও সেই প্রস্তাবের পক্ষে পর্যাপ্ত সমর্থন না জোগাড় করতে পারায় গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে যান ইউন সুক ইওল। যদিও আজ, শনিবার আর শেষরক্ষা হয়নি। এদিন ফের ইউনকে বরখাস্তের দাবি জানিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদে প্রস্তাব আনেন বিরোধী দলের আইন প্রণেতারা। ভোটাভুটিতে দেখা যায়, ৩০০ জন আইন প্রণেতাদের মধ্যে প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ২০৪ জন। ৮৫ জন আইন প্রণেতা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোটদান করেছেন। বাকি ১১ জনের মধ্যে তিন জন অনুপস্থিত ছিলেন। আর আট জনের ভোট বাতিল হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইউন সুক ইওলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তাঁর দল পিপলস পাওয়ার পার্টির অনেক সদস্যই সংসদে আনা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বরখাস্তের প্রস্তাব পাশ হয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে ইউনকে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালতে এই বিষয়ে একটি রায় দেওয়ার কথা রয়েছে। সাংবিধানিক আদালতই আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঠিক করবে ইউন প্রেসিডেন্ট পদে থাকবেন কিনা। আপাতত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী হান ডাক স ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গিয়েছে। গত ৩ ডিসেম্বর আচমকাই দেশে জরুরি ভিত্তিতে সামরিক আইন জারি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি এবং উত্তর কোরিয়ার হুমকিকে প্রতিহত করতেই এই আইন লাগু করেছেন বলে যুক্তি দেন তিনি। তাঁর ঘোষণার পরই দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাকে সংসদ ভবনে ঢুকতে দেখা গিয়েছিল। সংসদ ভবনের ছাদে নেমেছিল সামরিক কপ্টারও। অপরদিকে সামরিক আইন লাগুর প্রতিবাদে ৩ ডিসেম্বর থেকেই হাজার-হাজার মানুষ সংসদ ভবনের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিলেন। বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় বাধ্য হয়েই মাত্র ছ’ঘণ্টার ভিতরে সামরিক আইন প্রত্যাহার করে নেন ইউন।



