নাগোয়া: ক’দিন আগে মহিলা এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়েছিল ভারত। এশিয়ান গেমসের খেতাবি মঞ্চে আরও নির্মম হরমনপ্রীত কাউররা। এবার শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিল টিম ইন্ডিয়া। ভারতের ৩ উইকেটে ২১৬ রানের জবাবে ৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। সেই সুবাদে এশিয়ান গেমসে সোনা ধরে রাখলেন হরমনপ্রীতরা। আর এবারের আসরে এটাই ভারতের প্রথম স্বর্ণপদক।
সম্প্রতি ভারতের মহিলা দল দুরন্ত ফর্মে। এশিয়া কাপের পর এশিয়ান গেমসের প্রতিটি ম্যাচেই দাপট দেখিয়েছে তারা। এদিনও টস জিতে ভারতের ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তখনই বোঝা গিয়েছিল, প্রতিপক্ষকে রানের পাহাড়ে চাপা দেওয়াই লক্ষ্য। দুই ওপেনারই বড়ো রানের ভিত গড়ে দেন। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৯৯। শেফালি ভার্মা ৪৮ রানে থামলেও স্মৃতি মান্ধানা অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। ৭টি ছক্কা ও ৫টি চার সহ ৪৫ বলে ৭৯ রানের ঝকঝকে ইনিংস উপহার দেন বাঁ হাতি ওপেনার। ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীতের ব্যাট থেকে অবশ্য ১৯ রানের বেশি আসেনি। তবে বঙ্গ তনয়া রিচা ঘোষ ঝোড়ো ইনিংস উপহার দেন। ৩টি ছক্কা ও ৬টি চার সহ ২২ বলে তাঁর ৪৯ রানের ইনিংসের সৌজন্যে ভারতের স্কোরবোর্ড দুশোর গণ্ডি টপকায়।
দুশোর বেশি রান তাড়া অবশ্যই কঠিন কাজ। তবে শ্রীলঙ্কা যে একশো রানের গণ্ডিও টপকাতে পারবে না তা অনেকেই আশা করেননি। ভারতীয় স্পিনারদের সামনে রীতিমতো অসহায় আত্মসমর্পণ করেন চামারি আতাপাত্তুরা। রান তাড়া করতে নেমে ৪৯ রানেই ৬ উইকেট খুইয়ে ভেন্টিলেশনে চলে যায় তাঁরা। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ভারতের সফলতম বোলার দীপ্তি শর্মা। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি। এছাড়া শেফালি ভার্মা, শ্রেয়াঙ্কা পাতিল ও শ্রী চরণি দু’টি করে উইকেট নিয়েছেন।
এদিকে, গুঞ্জন ছিল এদিন এশিয়াডের পোডিয়ামেও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান তথা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভি পুরস্কার দেবেন। এশিয়া কাপ জেতার পর তাঁর হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করেন স্মৃতিরা। তবে এদিন তেমনটা হয়নি। নকভি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। পাকিস্তান দল এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জিতেছে। পোডিয়ামে শ্রীলঙ্কার প্লেয়ারদের সঙ্গে হরমনপ্রীতরা হাত মেলান। তবে পাকিস্তানের কোনো ক্রিকেটারের সঙ্গে কোনোরকম সৌজন্য বিনিময়ের পথে হাঁটেনি ভারতীয় মহিলা দল।