Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সম্পত্তির লোভে নিমতায় বৃদ্ধাকে খুন করে চম্পট দিল ছেলে-বউমা

সম্পত্তির লোভে নিমতায় বৃদ্ধাকে খুন করে চম্পট দিল ছেলে-বউমা
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সম্পত্তি নিয়ে বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে প্রায়শই ঝামেলা হতো ছেলের। সেই বিবাদ আদালতেও গড়িয়েছে। তার মধ্যে বৃদ্ধা মাকে খুন করে গা ঢাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠল গুণধর ছেলের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে নিমতা থানা এলাকায় ঘটেছে এই ঘটনা। পুলিস জানিয়েছে, মৃত বৃদ্ধার নাম রীতা ভট্টাচার্য (৭০)। তাঁর ছোট ছেলে দাদা ও বউদির নামে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিস জানিয়েছে, পলাতক দম্পতির খোঁজে পুলিস বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে।
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খুন হওয়া রীতাদেবীর বাড়ি নিমতা হাই স্কুল লাগোয়া সত্যেন দত্ত লেনে। দোতলা বাড়ির উপর তলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তাঁর বড় ছেলে সুজিত ভট্টাচার্য। আর নীচতলায় তিনি ছোট ছেলে সুবীর ভট্টাচার্যের সঙ্গে থাকতেন। সুবীরবাবু বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তাকর্মী। ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁর বিয়ের দিনক্ষণ স্থির হয়েছিল। তবে বড় ছেলে, বউমা ও নাতনির সঙ্গে বৃদ্ধার সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। গত কয়েক বছর ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ চলছিল। এমনকী তা আদালতেও গড়িয়েছে। ছোট ছেলের বিয়ে ঠিক হতেই বড় ছেলের সঙ্গে তাঁর ঝামেলা আরও বেড়েছিল। শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ সুবীরবাবু অফিসে বেরিয়ে যান। রাত আটটা নাগাদ তিনি বেলঘরিয়া স্টেশনে নেমে মা কটা রুটি খাবেন, তা জানার জন্য ফোন করেন। কিন্তু মায়ের ফোন সুইচড অফ থাকায় তিনি চমকে ওঠেন। কারণ, মায়ের ফোন কখনও বন্ধ থাকে না। রুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে দেখেন, সারা বাড়ি অন্ধকার। ঘরের বাইরে তালা দেওয়া। মা, দাদা-বউদিকে বারবার ডেকেও সাড়া পাননি। তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের বিষয়টি জানানোর পর তিনি নিমতা থানাতেও জানান। এরপর রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নিমতা থানার পুলিস ঘরের পিছনের জানালা খুলে বৃদ্ধাকে কম্বল চাপা অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে। দরজার তালা ভেঙে বিছানা থেকে বৃদ্ধার দেহ উদ্ধার করে পুলিস। বিছানায় রক্ত লেগেছিল।
পুলিসের অনুমান, বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। তবে দোতলায় থাকা বৃদ্ধার বড় ছেলে, বউমা ও নাবালক নাতনির কোনও খোঁজ পুলিস এখনও পায়নি। সুবীরবাবু বলেন, সম্পত্তির লোভে দাদা মায়ের উপর অত্যাচার করত। আমার বিয়ে ঠিক হওয়ার পর তা আরও বেড়ে গিয়েছিল। মাঝেমধ্যেই মাকে খুনের হুমকি দিত। মাকে দাদা ও বউদি মিলেই খুন করেছে। বাড়ির এক কাজের মাসি আছেন। তিনি শনিবার সকাল ১১টার সময় বাড়িতে এসেছিলেন। তখন দাদা দরজা খুলে তাঁকে জানিয়েছিলেন, মা বাড়িতে নেই। কাজ করতে হবে না। আমার ধারণা, আমি অফিস যাওয়ার পরই দাদা-বউদি মাকে খুন করে নগদ টাকা, সোনা ও সম্পত্তির কাগজপত্র নিয়ে চম্পট দিয়েছে। ওদের কঠোর সাজা চাই। শুধুমাত্র সম্পত্তির জন্য ও এমনটা ঘটাবে, স্বপ্নেও ভাবিনি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ