নিতাই সাহা , পুরুলিয়া: পুরুলিয়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র অযোধ্যা পাহাড়ে ধূমপান করা যাবে না। পরিবেশরক্ষায় ধূমপানের ক্ষেত্রে জারি হতে চলেছে নিষেধাজ্ঞা। এছাড়া নিষিদ্ধ প্লাস্টিক নিয়েও ওঠা যাবে না পাহাড়ে।
নিতাই সাহা , পুরুলিয়া: পুরুলিয়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র অযোধ্যা পাহাড়ে ধূমপান করা যাবে না। পরিবেশরক্ষায় ধূমপানের ক্ষেত্রে জারি হতে চলেছে নিষেধাজ্ঞা। এছাড়া নিষিদ্ধ প্লাস্টিক নিয়েও ওঠা যাবে না পাহাড়ে।
অযোধ্যা পাহাড়ে পর্যটন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে চলা দূষণ রোধে একাধিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে বন দফতর। সোমবার বিকেলে একাধিক রেঞ্জার ও অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও অঞ্জন গুহ। বৈঠকে সিদ্ধান্ত, প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ সহ একবার ব্যবহার করা যায় এমন ধরনের প্যাকেট নিয়ে পর্যটকরা পাহাড়ে উঠতে পারবেন না। প্লাস্টিকের তৈরি জলের বোতল নিয়েও নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘অযোধ্যা পাহাড়কে বাঁচাতে দীপাবলির পর থেকেই মূল দু’টি প্রবেশপথে নিয়মিত হবে নাকা চেকিং।’
ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেন, ‘পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে পাহাড়ের উপর প্লাস্টিকেরও চাপ বাড়ছে। পাহাড়কে প্লাস্টিকমুক্ত এলাকা ঘোষণার জন্য আমরা রাজ্যের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করছি দ্রুত প্রস্তাবে সিলমোহর পড়বে।’ বন দফতরের দাবি, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর আনুমানিক এক লক্ষ পর্যটকের সমাগম হয়েছিল অযোধ্যা পাহাড়ে। পর্যটন বিভাগ এবং বন দফতর এই ঘটনায় খুশি। তবে এর পাশাপাশি পাহাড়ে প্লাস্টিক ফেলে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। এ কারণে সব পক্ষের উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। শেষমেশ পাহাড় বাঁচাতে নেওয়া হয়েছে একাধিক পরিকল্পনা। এলাকা প্লাস্টিকমুক্ত করার সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়েছে। বন দফতরের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, সিরকাবাদ ও মাঠা হয়ে অযোধ্যা পাহাড়ে ওঠার মূল দু’টি প্রবেশপথে এবার থেকে হবে নাকা চেকিং। জেলা পুলিশের সহযোগিতায় চেকিং চলবে। দায়িত্ব থাকবে জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যদের হাতে। আধিকারিকরা জানান, কোনও পর্যটকের কাছ থেকে প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ সহ একবার ব্যবহার করা যায় এমন প্যাকেট কিংবা জলের বোতল থাকলে তা নাকা চেকিং পয়েন্টে জমা রাখা হবে। পাহাড় ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে পর্যটকরা চেকিং পয়েন্ট থেকে সে সব নিয়ে নিতে পারবেন। তবে শুধু প্লাস্টিকের উপর নিষেধাজ্ঞাই নয় একাধিক বিধিনিষেধ উল্লেখ করে পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় বসানো হবে সাইনবোর্ড। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকাজুড়ে নজরদারি চলবে। কোনও ধরনের নিয়মভঙ্গের ঘটনা ঘটলে কড়া পদক্ষেপ নেবে। নিজস্ব চিত্র