নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি অর্থবর্ষেও সমগ্র শিক্ষা মিশনের টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা বিশ বাঁও জলে। শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকদের মত, ধরে নেওয়া যেতে পারে, এবারও এই খাতে কোনও টাকা কেন্দ্র দেবে না। চলতি সপ্তাহেই এই তহবিলের জন্য দরবার করতে দিল্লি গিয়েছিলেন শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকরা। তবে, এই অর্থবর্ষের ২০০০ কোটি টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা কোনও আশ্বাস আদায় করতে পারেননি। কেন্দ্রকে তোপ দেগে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে কেন্দ্র রাজনীতি করছে বলেই অভিযোগ তাঁর।
Advertisement
বিকাশ ভবন সূত্রে দাবি, রাজ্য সরকার ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ১৬৩২ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ১৬৩২ কোটি টাকার মধ্যে এক পয়সায় পায়নি রাজ্য। এবছরের বকেয়া ২০০০ কোটির ক্ষেত্রেও একই পরিণতি হতে চলেছে। প্রসঙ্গত, এই প্রকল্পের টাকায় স্কুলশিক্ষার বড় অংশই নির্ভরশীল। ৬০: ৪০ অনুপাতে এই ব্যয় ভাগ করে থাকে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার। মিড ডে মিলের বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচও হয়ে থাকে এই প্রকল্পে। তাই বছরের পর বছর হাজার হাজার কোটি টাকা আটকে থাকলে কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। তার উপরে স্রেফ সমগ্র শিক্ষা মিশনের অধীনেই গোটা রাজ্যে বহু শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং আধিকারিক কর্মরত। তাঁদের ভবিষ্যতও ধীরে ধীরে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে চলে যাচ্ছে। ব্রাত্য বসু এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার কয়েক বছর ধরেই বাংলার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। এটা অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের পরিচয়। বাংলায় ভোটে জিততে পারছে না বলেই স্কুলশিক্ষার উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ টাকা দিচ্ছে না। ভোটে হার-জিত আছেই। বাংলার পড়ুয়ারা ভারতেরও পড়ুয়া। তাদের এভাবে বঞ্চিত করার অধিকার নেই কেন্দ্রের। অবিলম্বে এই টাকা মিটিয়ে দেওয়া উচিত।’ প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর নামাঙ্কিত কেন্দ্রীয় স্কুল তৈরির পিএমশ্রী প্রকল্পের মউ স্বাক্ষর না করার জন্যই এই টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। শিক্ষামন্ত্রী তথা শিক্ষা আধিকারিকদের দাবি, একটি প্রকল্পের শর্তে অন্য প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা অনৈতিক। যে প্রকল্পের ৪০ শতাংশ টাকাই রাজ্য দেবে, সেটি প্রধানমন্ত্রীর নামে করাও মেনে নেওয়া যায় না।



