Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাপ-শেয়ালের ভয় পেরিয়ে স্মার্ট, নিউটাউন আজ ৩১

বনবিড়াল দেখেছি। গোখরো সাপ, দেখেছি। শিয়ালের হুক্কা হুয়া সন্ধ্যার পর ভয় ধরিয়ে দিত। রোজই দেখতাম। কাউকে একা পেলে তাড়া করতে পারে।

সাপ-শেয়ালের ভয় পেরিয়ে স্মার্ট, নিউটাউন আজ ৩১
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

কলহার মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: বনবিড়াল দেখেছি। গোখরো সাপ, দেখেছি। শিয়ালের হুক্কা হুয়া সন্ধ্যার পর ভয় ধরিয়ে দিত। রোজই দেখতাম। কাউকে একা পেলে তাড়া করতে পারে। সেই ভয়ও পেয়েছি। সেই নিউটাউন আজ আকাশ ছুঁয়েছে। শহরকে স্মার্ট সিটি হতেও দেখলাম। বললেন বর্তমানে নিউটাউনে বসবাসকারী প্রথম আবাসিক আরতি পাল। তিনি এখন নব্বই ছুঁই ছুঁই। ২০০৩ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে থাকছেন বলাকা আবাসনে।

Advertisement

১৯৯৫ সালের ১ জুন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু নিউ ক্যালকাটার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেই দিনই সূচনা নিউটাউন উপনগরী তৈরির কাজের। বলাকার ফ্ল্যাট দেওয়ার লটারি হয় ২০০১ সালে। ২০০৩ সালে ফ্ল্যাট হ্যান্ডওভার। প্রথম বাসিন্দা হিসাবে পা রাখেন শোভেন ঘোষ চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী। এখন থাকেন বিরাটিতে। বললেন, ‘চারদিকে অন্ধকার। পাশের গ্রামের কয়েকজন এসে বললেন এখানে এলেন কেন? ওই সামনের বাঁশবাগানে অপদেবতার বাস। কারেন্ট ছিল না। পরে ডিরেক্ট লাইন দিল সরকার।’ এর কয়েকমাসের মধ্যে এলেন সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর এলেন আরতি পাল। শোভেনবাবুরা ওই সালেই দুর্গাপুজো শুরু করলেন। সেই পুজো এখনও হচ্ছে। আরতি দেবীই এখন এই উপনগরীর সবথেকে পুরনো বসবাসকারী মানুষ। বলাকার ঠিক আগে তৈরি শুরু হয় ইস্ট এনক্লেভ আবাসন তৈরির কাজ। সেখানেও ২০০৩ সালে থাকা শুরু হয়। প্রথম আসেন তরুণকুমার শর্মা। ওই বছরের মাঝামাঝি থাকা শুরু করেন। অর্থাৎ বর্তমানে তিনি নিউটাউনের দ্বিতীয় বাসিন্দা। বললেন, ‘তখন নিউটাউনে ধু ধু মাঠ আর জলা অঞ্চল। বিষধর সাপ। লোকজন নেই। সন্ধ্যার পর গা ছমছম করত।’ 
একঝলকে নিউটাউনের ইতিহাস হল এরকম, জমি অধিগ্রহণ বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি। রাজারহাট এবং তার সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকার কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে এই উপশহর গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। ১৯৯৯ সালে শহরের পরিকল্পিত পরিকাঠামো উন্নয়নের ভার দেওয়ার জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল হাউজিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন গঠন। তারপর নাগরিক পরিষেবা দিতে তৈরি হয় নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি । আর একটি কথা না বললেই নয়। নিউটাউন সংলগ্ন রাজারহাটের কোচপুকুরের একটি ঢিবি থেকে কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা জানান, মৃৎপাত্রের টুকরো পাওয়া গিয়েছে। আদি মধ্যযুগ বা এক থেকে দু’হাজার বছর আগের যে সব মৃৎপাত্রের নিদর্শন এর আগে মিলেছে, সেগুলির সঙ্গে কোচপুকুরের প্রত্নসামগ্রীর সাদৃশ্য আছে।
নিউটাউন যাঁর হাত ধরে তৈরি বামফ্রন্ট সরকারের তৎকালীন মন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, ‘অধিগ্রহণের সময় রাজারহাটের সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি তৈরি হয়েছিল জমির মূল্য সঠিকভাবে নির্ধারণের জন্য।’ হিডকোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান দেবাশিস বলেন, ‘আমার খুব আশা, নিউটাউনের মতো আরও কিছু স্মার্ট সিটি হোক বাংলায়। বাংলায় তো চারটে স্মার্ট সিটি দিতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। অন্য তিনটে স্মার্ট সিটি কি অজ্ঞাত কারণে করা হলো না, এ প্রশ্ন তো থেকেই গেল।’ রাজারহাট-নিউটাউনের বর্তমান বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়ার বক্তব্য, ‘এখনও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য আছে। পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাব। রাতে বাড়ি ফিরতে মানুষকে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। পানীয় জলেরও সমস্যা আছে। নাগরিকদের সব সমস্যা দ্রুত ঠিকঠাক করাই লক্ষ্য।’

সম্পর্কিত সংবাদ