Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়া স্টেশনে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে সাহিত্যিক তারাশঙ্করের স্মৃতিবিজড়িত ছোটো রেলের বগি

শতাব্দী প্রাচীন স্টিমইঞ্জিন ইতিহাসের পাতায় চলে গিয়েছে। ছোটো লাইনের ট্রেনও এখন স্মৃতি। হাওড়া সহ দেশের কয়েকটি জায়গার রেল মিউজিয়ামে সেসব ইঞ্জিন ও বগির দেখা মিলবে।

কাটোয়া স্টেশনে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে সাহিত্যিক তারাশঙ্করের স্মৃতিবিজড়িত ছোটো রেলের বগি
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, কাটোয়া: শতাব্দী প্রাচীন স্টিমইঞ্জিন ইতিহাসের পাতায় চলে গিয়েছে। ছোটো লাইনের ট্রেনও এখন স্মৃতি। হাওড়া সহ দেশের কয়েকটি জায়গার রেল মিউজিয়ামে সেসব ইঞ্জিন ও বগির দেখা মিলবে। অথচ কাটোয়া স্টেশনে ছোটো রেলের বগিগুলি অবহেলার জেরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। শোনা যায়, এই ছোটো রেলের বগিতে চেপে সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় কাটোয়ায় আসতেন। কিন্তু সাহিত্যিকের স্মৃতিবিজড়িত এই বগিগুলি সংস্কার করা নিয়ে রেলের কোনো বালাই নেই। রেলের গাফিলতিতে কার্যত হারিয়ে যেতে বসেছে ইতিহাস। কাটোয়া স্টেশনের ম্যানেজার সুপ্রভাত ভট্টাচার্য বলেন, ছোটো রেলের বগিগুলি পরিষ্কারের কথা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সেই কাজ শুরু হবে।

Advertisement

১৯১৪ সালে ডব্লু জি বাগনাল অ্যান্ড কো স্টাফোর্ড ইংল্যান্ড নামে একটি সংস্থা স্টিম ইঞ্জিনটি তৈরি করে। ‘একে-১৫’ নামের স্টিম ইঞ্জিনটির ওজন প্রায় ২৮ টন। উচ্চতা তিন মিটারের উপর। চওড়ায় প্রায় আড়াই মিটার। ইঞ্জিনটি কিনেছিল ম্যাকলিওড কোম্পানি। ১৯১৫ সালে বর্ধমান-কাটোয়া এবং ১৯১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কাটোয়া-আমোদপুর রেলপথ তৈরি হয়। রেলপথ দু’টির মালিকানা ছিল ম্যাকলিওড কোম্পানির হাতে। ১৯৬৬ সালে কাটোয়ার ন্যারোগেজ দু’টি ভারতীয় রেলের হাতে চলে আসে। কাটোয়া স্টেশনে থাকা স্টিম ইঞ্জিনটি ১৯৯৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত রেলপথে যাতায়াত করেছে। ১৯৯৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে রেল কর্তৃপক্ষ স্টিম ইঞ্জিনের ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। শুরু হয় ডিজেল ইঞ্জিনের ব্যবহার। ফলে, কাটোয়া-বর্ধমান ও কাটোয়া-আমোদপুর শাখায় ১৭টি ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে স্টিম ইঞ্জিনটির ঠাঁই হয়েছে কাটোয়া স্টেশন চত্বরে।
২০১৪ সালে কাটোয়ায় ন্যারোগেজ বন্ধ হয়েছে। কাটোয়া-বর্ধমান ও কাটোয়া-আমোদপুর শাখায় বৈদ্যুতীকরণ করা হয়েছে। ন্যারোগেজ বন্ধ হওয়ায় ২১টি ছোটো লাইনের বগি কারশেডে রাখা হয়। 
বগিগুলি কারশেডে পড়ে থেকে নষ্ট হতে বসেছে। জন্মেছে ঝোপ-জঙ্গল। ইতিহাস বলছে, ওই বগিতে চেপেই এক সময় সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ট্রেন ধরার জন্য বীরভূম থেকে কাটোয়ায় আসতেন। ট্রেনে সফরকালীন যে বগির সিটে বসে তিনি বহু উপন্যাস রচনা করেছেন, সেগুলিই আজ রেলের গাফিলতির জেরে মরচে ধরে নষ্ট হতে বসেছে। কাটোয়া স্টেশনে প্রায় ৩০জন চুক্তিভিত্তিক সাফাই কর্মী রয়েছেন। অথচ, বগিগুলি পরিষ্কার করা হয় না।
কাটোয়ার বিশিষ্ট শিক্ষক তুষার পণ্ডিত বলেন, ছোটো রেল শুধু লোহার স্তূপ নয়। এর সঙ্গে রাঢ়বাংলার বাঙালির জীবন-জীবিকার চিত্র জড়িয়ে আছে। রেলের কাছে আমাদের দাবি, স্টেশন চত্বরে মিউজিয়াম তৈরি করে বগিগুলিকে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। ইতিহাসের শহর কাটোয়ায় বহু পর্যটক আসেন। মিউজিয়ামটি তৈরি হলে তাঁরাও পুরানো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করতে পারবেন।

সম্পর্কিত সংবাদ