সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কৌশিকী অমাবস্যার প্রাক্কালে তারাপীঠের হোটেল ও লজগুলি মাত্রাছাড়া ভাড়া হাঁকায় ক্ষুব্ধ দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা। সরকারি নির্দেশ ও প্রশাসনিক সতর্কবার্তাকে স্রেফ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তারাপীঠজুড়ে চলছে অলিখিত ‘তিনদিনের প্যাকেজ’ ও মাত্রাতিরিক্ত ঘরভাড়া চাওয়ার অন্যায্য কারবার।
কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষ্যে প্রশাসনিক বৈঠকে সরকারি আধিকারিক থেকে টিআরডিএর কর্মকর্তারা হোটেল অ্যাসোসিয়েশনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনোভাবেই পুণ্যার্থীদের কোনো প্যাকেজ নিতে বাধ্য করা যাবে না। কেউ এক বা দু’ দিনের জন্য থাকতে চাইলে তাঁকে নাগালের মধ্যে ভাড়ায় ঘর দিতে হবে। কিন্তু বাস্তব ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। কাল বৃহস্পতিবার কৌশিকী তিথি শুরু হচ্ছে। থাকবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত। পরের দিন শনি ও রবিবার ছুটি। চলতি বছর সপ্তাহান্তে এই তিথি পড়ায় প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষের ভিড় হওয়ার আশা প্রকাশ করেছে প্রশাসন। আর এই বিপুল সমাগমের সুযোগকেই হাতিয়ার করেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণ দিনে যে সিঙ্গল এসি ঘরের ভাড়া খুব বেশি হলে ৮০০ টাকা, কৌশিকীর সময় তার জন্য চাওয়া হচ্ছে এক রাতে প্রায় ৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ডবল বেডের ঘরের তিনদিনের প্যাকেজ ভাড়া ঠেকেছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। একদিন বা দুই দিনের জন্য ঘর চাইতে গেলে পর্যটকদের সোজাসুজি বলে দেওয়া হচ্ছে ‘হাউসফুল’ বা ঘর খালি নেই। কলকাতা থেকে আসা রামেশ্বর মণ্ডল নামে এক ক্ষুব্ধ পর্যটক জানান, কয়েক মাস আগে পরিবার নিয়ে এসে যে ঘর ১৫০০ টাকায় পেয়েছিলাম, এখন কৌশিকী তিথিতে বুক করতে এসে শুনছি কয়েকগুণ বেশি টাকা লাগবে। কোনো নির্দিষ্ট প্রশাসনিক নজরদারি বা অভিযোগ জানানোর সুনির্দিষ্ট জায়গা পাচ্ছি না।
রাজ্যে পালাবদলের পর তারাপীঠ হোটেল অ্যাসোসিয়েশন ভেঙে যায়। বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনো হোটেল অ্যাসোসিয়েশন নেই। একাধিক নামসর্বস্ব সংগঠন গজিয়ে ওঠায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন ব্যবসায়ীরা বলে অভিযোগ।
মন্দির কমিটির সভাপতি তথা স্থানীয় বিজেপি নেতা এবং টিআরডিএর অন্যতম সদস্য নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় পুণ্যার্থীদের অভিযোগ স্বীকার করার পাশাপাশি হোটেল মালিকদের এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, প্রশাসনিক বৈঠতেই স্পষ্ট বারণ করা হয়েছিল। তারপরও অতিরিক্ত ভাড়া ও তিনদিনের প্যাকেজ করা হয়েছে। আমরা সরাসরি এভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারি না। এটা প্রশাসনকে দেখতে হবে। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, এভাবে কথা শুনবে না, দু’-একজন অসৎ হোটেল মালিককে পুলিশ লকআপে ভরলেই তবে এরা সোজা লাইনে আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হোটেল মালিকদের এই সীমাহীন লোভের কারণে বহু সাধারণ ভক্ত তারাপীঠে আসার উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন, যার প্রভাবে কৌশিকী তিথিতে পুণ্যার্থীর সংখ্যাও কমছে। তবে সার্বিক গোলযোগের মুখে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন রামপুরহাটের মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোর। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই বাধ্যতামূলক প্যাকেজ বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।