সংবাদদাতা রানাঘাট: সত্তর দশকের শুরুর দিকে শান্তিপুরের বিখ্যাত পাতালকালীর পুজোর সূচনা। সেইসময় এই এলাকায় অনেকগুলি ডাকাত কালীর পুজো হত। আলাদা কিছু করার তাগিদেই উদ্যোক্তারা মাটির নিচে গুহার মতো গর্ত খুঁড়ে সেখানে মা কালীর আরাধনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে স্থানীয় মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনার জেরে নামডাক বাড়ে এই পুজোর। প্রাচীন রীতি ও তন্ত্রমতে নিষ্ঠার সঙ্গে আজও পূজিত হচ্ছেন শান্তিপুরের দেবী মা পাতালকালী।
শুরুর দিকে সুরক্ষার তাগিদে প্রশাসনিক নির্দেশে গুহা পুরোপুরি ঢেকে না রেখে খোলা অবস্থায় পুজোর অনুমতি মিলেছিল। মাটির নিচে গর্তের মধ্যে ত্রিপল খাটিয়ে শুরু হয়েছিল মা পাতালকালীর পুজো।
প্রতিবছরই মাটি কেটে গর্ত করেই চলছিল পুজো। তবে ২০০৭ সালে মাটি কাটার সময় আচমকাই পাশের একটি বড়ো মাটির চাই ধসে পড়ে চাপা পড়েন দুই শ্রমিক। অলৌকিকভাবে স্থানীয়দের তৎপরতায় ওই দু’জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এরপরই পুজো কমিটি স্থায়ী কাঠামোর সিদ্ধান্ত নেন। মাটির নিচের গর্ত এবং তিনদিকে শক্ত ইটের গাঁথুনি দেওয়া হয় এবং নিচে নামার জন্য সিঁড়িও নির্মাণ হয়।
পুজোর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তথা ৭৬ বছরের হাবুল গোস্বামী জানান, আজও পুরানো ঐতিহ্য ও তন্ত্রমতেই রুদ্ররূপে মা পাতালকালীর পুজো হয়। ১০ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার মায়ের পায়ের কাছে রাখা থাকে মৃত মানুষের খুলি। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী দু’টি মানুষের এবং একটি বানরের মাথার খুলি মায়ের চরণতলে রাখা থাকে। এছাড়াও মায়ের এক পা মহাদেবের বুকের উপর এবং অপর পা থাকে মাটির তৈরি একটি মানব কঙ্কালের উপর। কালীপুজোর সময় মাটির নিচের এই পবিত্র স্থানকে বটগাছের মূল দিয়ে বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলা হয়। অমাবস্যা তিথি শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই পুরোহিত মণ্ডপে পুজোয় বসেন। মায়ের মন্দিরের দু’পাশে জ্বলজ্বল করে দু’টি মশাল, যা পূজো প্রাঙ্গণে এক অলৌকিক ও গম্ভীর পরিবেশ সৃষ্টি করে। এই পুজোয় কোনো পশু বলির প্রথা নেই। বলি হিসেবে আখ উৎসর্গ করা হয়। মায়ের ভোগে নিবেদন করা হয় অনেক রকমের ভাজা, খিচুড়ি ও অন্যান্য অন্ন ভোগ।
কালীপুজোর পরদিনই এলাকার স্থানীয় ও ভক্তদের উপস্থিতিতে ঢাক ঢোল বাজিয়ে মা পাতালকালীকে নিরঞ্জনের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। অতীতে শোভাযাত্রার সময় মায়ের সঙ্গে জ্বলন্ত মশাল নিয়ে যাওয়ার প্রচলন থাকলেও বর্তমানে আর মশাল নিয়ে যাওয়া হয় না। -নিজস্ব চিত্র



