নিজস্ব প্রতিনি, বর্ধমান: বসন্ত এসে গেছে। চলছে ভ্যালেন্টাইন্স উইক। ভালোবাসার মরশুমে আকাশে বইছে প্রেম। এমন সময় প্রেমিক-প্রেমিকাদের মনে দোলা লাগবে না এমনটা তো আর হতে পারে না। কেউ চোখের ইশারা আবার কেউ ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসিতে মনের ইচ্ছে বুঝিয়ে দিচ্ছে। বীরভূমের শান্তিনিকেতন হোক বা বর্ধমানের গোলাপবাগ-সর্বত্রই এখনই চলছে প্রেমিক-প্রেমিকাদের মন দেওয়া নেওয়ার পালা। গাছের পুরনো পাতা ঝরে পড়ছে। সূর্যের হালকা তেজ আর ফুরফুরে হাওয়া প্রেমের বাতাবরণ তৈরি করেছে। কিন্তু এই আবহে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও কি লীলাখেলার স্থান হতে পারে? অনেকে বলেন, প্রেমে মন মজলে কোনও কিছুরই তোয়াক্কা করে না। ঠিক যেমন করেননি কালনার একটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষিকা। দু’জনেই বিবাহিত। কিন্তু তাতে কী? মনে প্রেমের উদয় যখন তখন হতে পারে। তবে বিষয়টি প্রেম পর্বে থেমে থাকলে আপত্তি থাকত। সেটা গড়িয়েছে আরও গভীরে। তাও আবার স্কুলের মধ্যেই। এমনই অভিযোগ গ্রামবাসীদের। তাঁরা ওই শিক্ষক-শিক্ষিকার কীর্তি তুলে ধরে বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের কাছেও পৌঁছেছে। গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ওই দু’জনের সম্পর্কে আমরা অনেক দিন ধরেই অনেক কিছু শুনে আসছিলাম। কিন্তু তাতে কান দিইনি। কিন্তু গত ৭ ফেব্রুয়ারি স্কুলের ক্লাসরুমের মধ্যে যে ঘটনা হয়েছে তা মেনে নিতে পারিনি। ক্লাসরুমের জানালার ফাঁক দিয়ে এলাকার এক ব্যক্তি সেই দৃশ্য দেখেন। তিনি মুহূর্তে চোখ বন্ধ করে দেন। লজ্জায় তাঁর চোখ মুখ লাল হয়ে গিয়েছিল। তাতে অবশ্য ওই প্রেমিক যুগলের তেমন হেলদোল ছিল না। আর এক বাসিন্দা বলেন, ছাত্রছাত্রীদের সামনে তাঁরা প্রেমলীলা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু তারপরের তাঁরা যে কাণ্ড বন্ধ ক্লারুমে করেছেন তা মেনে নেওয়া যায় না। ক্লাসরুমকে হয়তো তাঁরা বেডরুম ভেবে বসেছিলেন। এতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়। ওই দু’জন শিক্ষক-শিক্ষকার দ্রুত বদলি হওয়া উচিত। ওদের কীর্তির কথা ভাবতেই অবাক লাগছে।
Advertisement
ওই শিক্ষক-শিক্ষিকা অবশ্য কর্তৃপক্ষর কাছে তাদের কীর্তি অস্বীকার করেছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান মধুসূদন ভট্টাচার্য বলেন, এমনটা হয়ে থাকলে দুর্ভাগ্যজনক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পবিত্র জায়গা। সেই পরিবেশ এভাবে নষ্ট করা যায় না। স্কুলের ছুটি মিটে গিলেই ওই দু’জনকে ডেকে পাঠানো হবে। এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগপত্রে লিখেছেন, মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক- শিক্ষিকারা। তাঁরা নক্করজনক কাজ করলে তা মেনে নেওয়া যায় না। সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যবস্থা নিতেই হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলার শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, শিক্ষার পরিবেশ যারা কালিমালিপ্ত করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, বিষয়টি প্রেম পর্বে থেমে থাকলেই ভালো ছিল। অন্তরঙ্গ হওয়ার জন্য অন্য ঘর তাঁরা বেছে নিতে পারতেন। হোক না বসন্তকাল। তাই বলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন লীলা বেমানান।
কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, বিষয়টি প্রেম পর্বে থেমে থাকলেই ভালো ছিল। অন্তরঙ্গ হওয়ার জন্য অন্য ঘর তাঁরা বেছে নিতে পারতেন। হোক না বসন্তকাল। তাই বলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন লীলা বেমানান।



