নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সরকারি স্কুলে নিয়মিত মিড ডে মিল দেওয়া হয়। কিন্তু যাদের দেওয়া হয় তাদেরই একাংশের সে খাবার খেতে অনীহা। শহর এলাকার বহু স্কুলে এই প্রবণতা বেশি। সেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে আসে। কেউ বাইরের খাবারও কিনে খায়। কেন এই অনাগ্রহ। শিক্ষকদের ধারণা, এক শ্রেণির পড়ুয়ার অভিভাবকরা মিড ডে মিল খেতে সন্তানদের উৎসাহ দেন না। তার অন্যতম কারণ, মিড ডে মিলের একঘেয়েমি খাবার প্রতিদিন খেতে চায় না বাচ্চারা। তাদের আবদার রাখতে অভিভাবকরা টিফিন পাঠান।রাজপুর-সোনারপুর পুর এলাকার এক স্কুলের শিক্ষিকা বলেন, ‘সবার সঙ্গে বসে মিড ডে মিল খেতে দেখা যায় না এক শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীকে। কিছু বললে তারা উত্তর দেয়, বাড়ি থেকে বাবা-মা ভালো টিফিন দেয়। তাই স্কুলের খাবার খাই না।’ ডায়মন্ডহারবারের একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক বলেন, ‘লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার নেওয়ার মানসিকতাই তৈরি হয়নি অনেকের মধ্যে। তাদের কথাবার্তায় তা স্পষ্ট বোঝা যায়। হয়ত বাড়ি থেকেই একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার উৎসাহ পায় না।’ এই বিষয়টি স্কুলের মধ্যে পড়ুয়াদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা শিক্ষকদের। জানা গিয়েছে, জেলার পুরসভা অঞ্চলের স্কুলগুলিতে দৈনিক মিড ডে মিলের হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। অথচ বাকি জায়গায় এই গড় দৈনিক ৭০ শতাংশেরও বেশি। শহরাঞ্চলের বাচ্চাদের এই প্রবণতা ভাবাচ্ছে শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদেরও। সমস্যা দূর করতে অনেকের বক্তব্য, ‘খাবারের মান বাড়াতে হবে। মেনুতেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজন।’ তাছাড়া আরও একটি বিষয় বলছেন অনেকে। সেটি হল, ‘শিক্ষকরাও যদি বাচ্চাদের সঙ্গে মাঝে মধ্যে মিড ডে মিল খান, তাহলে অনেক পড়ুয়ার জড়তা কেটে যেতে পারে।’ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান অজিত নায়েক বলেন, ‘সব পড়ুয়া মিড ডে মিল খায় না, এটা বাস্তব। তাদের উপর কোনও কিছু চাপিয়েও দেওয়া যাবে না। তবে আশা করব সব পড়ুয়ারা একসঙ্গে বসে মিড ডে মিল যাতে খায় সেটা অভিভাবক এবং শিক্ষকরা বুঝিয়ে বলবেন।’



