


রং খেলার আগে ও পরে কীভাবে খেয়াল রাখবেন?
কেউ সারা বছর রঙিন থাকেন। কেউ বা ক্যালেন্ডার মেনে রাঙিয়ে তোলেন নিজেকে। জীবন রঙিন থাকা খুব জরুরি। সামনেই দোল উৎসব। রং নিয়ে মাতবেন তো সবাই, কিন্তু বজায় রাখতে হবে সাবধানতার দিকটিও। ত্বক এবং চুল বাঁচিয়েই রঙিন হয়ে ওঠার পরিকল্পনা করুন। নিজের যত্ন ভুলে গেলে পরে দেখা দেবে সমস্যা। তাই নজর দিন আগেভাগেই।
দোল খেলার পর ত্বক ও চুলে নানা সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ বেশিরভাগ রঙের মধ্যেই আজকাল রাসায়নিক দেওয়া থাকে। বাজারে অনেক রকম হার্বাল আবির বা রং পাওয়া যায়। কিন্তু অনেক সময় ভেষজের নাম করে ভেজাল রংও বিক্রি হয়। সেগুলো অবশ্যই দেখে কিনতে হবে।
খেয়াল রাখুন, কোনওভাবে যেন রং চোখে না ঢুকে যায়। সানগ্লাস বা চশমা এক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। ফুলহাতা সুতির জামা পরে রং খেলুন। এতে ত্বকে সরাসরি রং থেকে র্যাশ বেরনোর সম্ভাবনা কমবে। খেলার মাঝে জল, ডাবের জল বা ডিটক্স ওয়াটার খেতে থাকুন। পাতিলেবু বা পুদিনা মেশানো জল খান। যাতে শরীর ডিহাইড্রেট না হয়ে যায়। কারণ এখন বেশ গরম।
রং খেলতে যাওয়ার আগেই মুখ এবং ত্বক ক্লিনজিং করুন। এর পর ময়েশ্চারাইজার দিন ঘন করে। এতে রোমকূপগুলো ময়েশ্চারাইজার ভর্তি থাকবে , এর ফলে রং ভিতরে কম যাবে। এসপিএফ যুক্ত ময়েশ্চারাইজার সানস্ক্রিন লোশন হিসেবে কাজ দেবে। আগেকার দিনে মা-মাসিরা ভরসা রাখতেন তেলের উপর। রং খেলার আগে শিশুকেও মাখিয়ে দিতেন তেল। তাই এখনও কেউ চাইলে বডি অয়েল মাখতে পারেন। তার উপরে দিন সানস্ক্রিন লোশন।
রং থেকে লম্বা চুল বাঁচাতে ভালো করে তেল মাসাজ করে গোড়া কষে বেঁধে নিন বা খোঁপা করে কোনও স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে দিতে পারেন। অয়েল মাসাজের পর লিভ অন কন্ডিশনারও দিতে পারেন। অর্ধেক কাপ জলের মধ্যে চার চামচ মেথি ফুটিয়ে জলটা শুকিয়ে গেলে একটা থকথকে জিনিস বেরবে। সেটা ভালো করে ছেঁকে চুলে লাগিয়ে রং খেলুন। এতে বাঁচবে চুল।
কারও এগজিমা থাকলে রং থেকে দূরেই থাকুন। আর ত্বকের কোনও সমস্যা থাকলে শুকনো রং বা আবির ছাড়া কিছু ব্যবহার করবেন না। যাঁদের হাঁপানি রয়েছে বা অ্যালার্জি রয়েছে তাঁরাও রং ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুবই সাবধান থাকুন। রঙের উৎসবে শামিল হলেও সরাসরি রং না মাখাই শ্রেয়।
রং খেলার পরের সাবধানতা
১) রঙের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কিছু ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। রং খেলার পর ত্বক শুষ্ক হয়। টক দই এবং হলুদ মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে হালকা ঘষে নিয়ে পাঁচ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। দইতে সমস্যা থাকলে অলিভ অয়েলের সঙ্গে বেসন মিশিয়ে মুখে ১০ মিনিট লাগিয়ে তুলে ফেলুন।
২) রং খেলার পর প্রতি ঘণ্টায় একবার করে ময়েশ্চারাইজার লাগান। তৈলাক্ত ত্বক হলে অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার আর শুষ্ক ত্বক হলে তৈলাক্ত ময়েশ্চারাইজার লাগান।
৩) ত্বকের খোলা অংশে ভালো করে চালের গুঁড়োর সঙ্গে টক দই বা কাঁচা দুধ তার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস বা টম্যাটো পাল্প নিয়ে হালকা ঘষে ধুয়ে ফেলবেন। এই প্যাক ত্বকে স্ক্রাবিংয়ের কাজ করবে।