Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জুনেই খোলা হবে এসজেডিএ’র ফাইল, আতঙ্কে রাঘব বোয়ালরা

জুনেই খুলতে চলেছে শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির পুরনো সব কাজের ফাইল। আর এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কে রাঘব বোয়ালরা।

জুনেই খোলা হবে এসজেডিএ’র ফাইল, আতঙ্কে রাঘব বোয়ালরা
  • ২৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০

তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: জুনেই খুলতে চলেছে শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির পুরনো সব কাজের ফাইল। আর এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কে রাঘব বোয়ালরা। নেতা থেকে ঠিকাদার, এমনকী ভুয়া সংস্থার তালিকাও তৈরি করা হবে বলে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, নতুন কমিশনের তদন্ত শুরু হলেই ঘুম ছুটবে অনেকের। বিভিন্ন সময়ের বোর্ড সদস্য থেকে একাধিক আমলার কাজ আতসকাচের নীচে এনে তদন্ত চালানো হবে। এসজেডিএ’র ২০০ কোটি টাকার দুর্নীতির যে অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল তারই পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নামতে যাচ্ছে রাজ্যের নতুন সরকার। শিলিগুড়ির তৎকালীন পুলিশ কমিশনার তথা বর্তমান রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইন) কে জয়রামনকে তদন্ত কমিশনের সদস্য হিসাবে রাখা হয়েছে। ফলে রাঘব বোয়াল ধরা পড়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে জোর চর্চা চলছে। 
এ প্রসঙ্গে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, যেমন কর্ম তেমন ফল। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নেতা-মন্ত্রী থেকে বোর্ডের সদস্য কার কতটা যোগ ছিল অনিয়মে, তা খতিয়ে দেখবে আমাদের সরকার। 
তদন্ত প্রসঙ্গে এসজেডিএ-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, রাজ্য সরকার যেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্ত করাতে চাইছে ,আমরা সেই বিষয়টিকে স্বাগত জানাচ্ছি। একই কথা আরেক প্রাক্তন সদস্য শংকর মালাকারেরও। 
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে এসজেডিএ’র দুর্নীতির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। তদন্তভার পাওয়ার পরেই পুলিশ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে শুরু করে। তদন্তে নেমেই পুলিশ অফিসাররা একের পর এক টেন্ডার, কাজের ক্ষেত্রে অনিয়ম লক্ষ্য করেন। দেখা যায় কোথাও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় গলদ থাকার পরেও কাজ পেয়েছে সংস্থা। ভুয়ো সংস্থার নামে বিল হয়েছে। এক কোদাল মাটি না ফেলেও বিল মেটানো হয়েছে। কোনো ফাইলে দেখা যায় ডাম্পারে ডাম্পারে বালি, পাথর ফেলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তাবে নির্মাণ সামগ্রী আনাই হয়নি। কিন্তু ভুয়ো বিল জমা করে মেটানো হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। আবার কোথাও দেখা গিয়েছে বোর্ডের কোনো এক প্রভাবশালী সদস্যের অঙ্গুলিহেলনে কাজ পেয়েছে অনভিজ্ঞ সংস্থা। কাজ পরিদর্শন না করে, কাজের মান যাচাই না করে লক্ষ লক্ষ টাকার বিল অনায়াসেই মেটানো হয়েছে। পুলিশি তদন্তে একের পর এক দুর্নীতির পর্দাফাঁস হতে থাকে। এসজেডিএ’র এক পদস্থ আধিকারিককে গ্রেপ্তার করা হয় ওই সময়। যদিও পরবর্তীতে কোনো এক অজানা কারণে তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়। গত এক দশকেরও বেশি সময় ঠান্ডাঘরে থাকে এসজেডিএ’র দুর্নীতির ফাইল। রাজ্যে এবার সরকার পরিবর্তন হতেই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করতে কমিশন গড়া হয়েছে। পুনরায় খোলা হবে পুরনো ফাইল। আর এতেই একাধিক নেতা-কর্মীর ঘুম ছোটার উপক্রম হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ