Bartaman Logo
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাইজ ২৮! দাম বাড়লেও মাত নয়া প্রজন্ম, বাজারে ঘুড়ির চাহিদা একইরকম, খুশি বিক্রেতারা

কেউ ট্যাক্সি বোঝাই করে নিয়ে গেলেন। কেউ আলাদা ব্যাগ কিনলেন। সময় গড়িয়েছে, দিন বদলেছে, বিনোদনের ধরন বদলেছে, কিন্তু দেখা গেল, বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ির চাহিদা এতটুকুও কমেনি।

সাইজ ২৮! দাম বাড়লেও মাত নয়া প্রজন্ম, বাজারে ঘুড়ির চাহিদা একইরকম, খুশি বিক্রেতারা
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেউ ট্যাক্সি বোঝাই করে নিয়ে গেলেন। কেউ আলাদা ব্যাগ কিনলেন। সময় গড়িয়েছে, দিন বদলেছে, বিনোদনের ধরন বদলেছে, কিন্তু দেখা গেল, বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ির চাহিদা এতটুকুও কমেনি। কলকাতা শহরের ঘুড়ি বিক্রেতাদের এবং ক্রেতাদের অন্তত সেরকমই বক্তব্য। পুজো প্রাক্কালে লেবুতলা পার্কের জনপ্রিয় ঘুড়ির দোকানগুলি বুধবার সকালেই ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। দোকানদারদের বক্তব্য, ‘লোকজন গাড়ি বোঝাই করে ঘুড়ি কিনে নিয়ে গিয়েছেন। আলাদা অর্ডারও দিয়ে গিয়েছেন। সেসব গিয়েছে বিক্রি হয়ে। এখন টুকটাক খুচরো বিক্রি হচ্ছে।’ এ বছর নতুন কী এল? উত্তর, ‘২৮ সাইজের ঘুড়ি।’ বিশেষত্ব কী? ‘ওড়ানো সহজ। হাওয়া কাটাতে পারে ভালো। ফলে এটাই এখন চলছে বেশি।’

Advertisement

ঘুড়ির দাম কি আগের তুলনায় বেড়েছে? বিক্রেতারা বলছেন, ‘বেড়েছে। তবে সামান্য। ৮ টাকার ঘুড়ি হয়ত ৯ টাকা হয়েছে। তবে এই সামান্য মূল্যবৃদ্ধিতে কিশোর-তরুণরা পিছু হটেনি।’ বুধবার লেবুতলা পার্কে দেখা গিয়েছে, ‘মায়ের হাত ধরে এক খুদে ক্রেতা দোকানে এসেছে ঘুড়ি কিনতে। এই ঘুড়ি না ওই ঘুড়িটা? পছন্দ করতে করতে হয়রান। মায়েরও বিরক্তির একশেষ। অবশেষে, পেটকাটি ঘুড়ি পছন্দ হল বাচ্চাটির। ঘুড়িটা পেয়ে বুকে জড়িয়ে আগলে রাখল। আকাশের দিকে তাকাল। তখনই ওড়ানোর স্বপ্নে বিভোর। দেখা গিয়েছে, তরুণদের মধ্যে ঘুড়ির চাহিদা প্রবল। আমহার্স্ট স্ট্রিট থেকে একদল তরুণ লেবুতলা পার্কে এসেছিলেন ঘুড়ি কিনতে। তাঁদের বক্তব্য, ‘ঘুড়ির দাম বেড়েছে ঠিকই। অনেক বলার পরও দাম একটুও কমালো না। একটাও ফাউ দিল না।’ স্কুলছুটির পর ৮ বছরের ছেলেকে নিয়ে বাবা এলেন কিনতে। বললেন, গত বছর ছেলে প্রথমবার ঘুড়ি উড়িয়েছিল। এটা দ্বিতীয় বছর। আমাদের ছোটবেলা তো বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ঘুড়ি উড়িয়েই কাটত। ছেলেকেও সেসব শিখিয়ে যাই।’
দিন বদলের সঙ্গে ঘুড়ির রকমফের খুব একটা হয়নি বলে জানালেন দোকানদাররা। পেটকাটি, চাঁদিয়াল, মোমবাতি, বগ্গা তো আছেই, তার সঙ্গে বিভিন্ন সুপারহিরোর ছবি দেওয়া প্লাস্টিকের ঘুড়ির চাহিদাও রয়েছে এবার। এছাড়া মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের জন্য সবুজ-মেরুন, লাল-হলুদ ঘুড়িও রয়েছে। সেখানে আবার ক্লাবের সমর্থনে স্লোগানও লেখা। তবে এবার ঘুড়িতে রাজনীতির রংও লেগেছে। বিজেপি আমল বলে ‘জয় শ্রীরাম’ লেখা, পদ্মফুল আঁকা ঘুড়িও এসেছে। গেরুয়া ঘুড়ির গায়ে শ্রী রামচন্দ্র তির-ধনুক তাক করে রয়েছেন। সেখানে লেখা ‘জয় শ্রীরাম’। এক বিক্রেতা বললেন, ‘এই ঘুড়িগুলি তৈরির অর্ডার এসেছিল। কিছু অতিরিক্ত তৈরি করেছিলাম। তা বিক্রি হয়ে গিয়েছে।’ এর পাশাপাশি বিশ্বকর্মা আঁকা ঘুড়িও রয়েছে। 
সঙ্গে এ বছর যোগ হয়েছে ২৮ সাইজের ঘুড়ি। ঘুড়ির সঙ্গে চাই লাটাই। একেবারে মাঞ্জা মারা সুতোও লাগবে। ঘুড়ির দোকানে সেসবও বিক্রি হচ্ছে। ঘুড়ির দোকানের পাশে লাটাই আর মাঞ্জারও আলাদা দোকান। সেখানেও ভিড়। বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষ্যে কলকাতা শহরের আকাশ ঘুড়িতে ছেয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। ‘পুজোর দিন কলকাতার আকাশ ঘুড়ির রঙে রঙিন করে ফেলা হবে,’ বলতে বলতে লেবুতলা ছাড়লেন একদল তরুণ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ