Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝড়খালির হেঁড়োভাঙা জঙ্গলে নয়া ঠিকানা বানাচ্ছে ছ’বছরের বাঘ, দেখা নেই, কানফাটানো গর্জনেই চরম আতঙ্ক

রাত গড়ালেই তার গর্জন। নদীর পাড়ে কাদামাটিতে পায়ের ছাপ। রাতে তো বটেই দিনের বেলাতেও ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে গা ঢাকা দিয়ে ঘুরছে বাঘ।

ঝড়খালির হেঁড়োভাঙা জঙ্গলে নয়া ঠিকানা বানাচ্ছে ছ’বছরের বাঘ, দেখা নেই, কানফাটানো গর্জনেই চরম আতঙ্ক
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাত গড়ালেই তার গর্জন। নদীর পাড়ে কাদামাটিতে পায়ের ছাপ। রাতে তো বটেই দিনের বেলাতেও ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে গা ঢাকা দিয়ে ঘুরছে বাঘ। বয়স আনুমানিক ছ’বছর। পুরুষ। তার জন্য ঘুম ছুটেছে গ্রামের প্রায় দু’হাজার বাসিন্দার। 

Advertisement

সুন্দরবনের হেঁড়োভাঙা জঙ্গলে আপাতত আতঙ্কের আর এক নাম রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। প্রাণীটি যাতে কোনও অনিষ্ট না করতে পারে তার জন্য আটজনের একটি টিম নজরদারি চালাচ্ছে। তবে তাও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না। 
জানা গিয়েছে, মাস তিনেক আগে গ্রীষ্মকালে ঝড়খালিতে লোকালয়ের কাছে চলে এসেছিল বাঘটি। বনবিভাগ তখন সেটিকে জঙ্গলে ফেরত পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করে। তবে তাড়ানোর আগেই সে নিজে চলে যায়। কিন্তু আসলে এলাকা ছেড়ে যায়নি। গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলের কাছে ঘোরাফেরা করতে শুরু করে। তারপর নতুন করে আতঙ্ক দেখা দেয় ঝড়খালি  গ্রামে। এই গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ মাছ-কাঁকড়া ধরে সংসার চালান। এখন বাঘের ভয়ে অনেকেই নদীতে যেতে ভয় পাচ্ছেন।
বাঘটিকে জঙ্গলে আটকে রাখতে হেঁড়োভাঙা জঙ্গলে ১১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নতুন জাল বসানো হয়েছে। যে জায়গা দিয়ে আগে বাঘটি বেরিয়েছিল সেই অংশে অতিরিক্ত দু’কিলোমিটার নাইলনের ফেন্সিং বসিয়েছেন বনকর্মীরা। বনবিভাগ খোঁজখবর করে জানতে পারে, হেঁড়োভাঙা চার ও পাঁচ নম্বর কম্পার্টমেন্ট জঙ্গলে এই একটি মাত্র বাঘই আছে। এই জায়াগটিকে নিজের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়ে বিচরণ করছে সে। এই ঘটনায় অন্য ইঙ্গিতও পাচ্ছে বনবিভাগ। বন আধিকারিকরা মনে করছেন, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা বোঝা যাচ্ছে এই বাঘটির আচরণ বিশ্লেষণ করে। কারণ প্রাণীটি যেন নিজের বিচরণক্ষেত্র নির্দিষ্ট করতেই ঘুরে ঘুরে সীমানা নির্ধারণ করে চলেছে। বনের এই অংশ দিয়ে সাম্প্রতিককালে কখনও বাঘ লোকালয়ে আসেনি বা নদীর ধারে পায়ের ছাপ দেখা যায়নি। এই বাঘটি নিজের এলাকা তৈরি করতে বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে অস্তিত্বের প্রমাণ দিয়ে রাখছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনবিভাগের কাছে এটিও নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঝড়খালির জনাকয়েক মৎস্যজীবী বলেন, ‘যাঁদের নদীর ধারে বাড়ি তাঁরা বাঘের গর্জন শুনতে পাচ্ছেন। পায়ের ছাপও দেখা গিয়েছে।’ অন্যদিকে বনবিভাগ গ্রামবাসীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু বাঘের গর্জন মোটেও স্বস্তি দিচ্ছে না মানুষকে। ক্রমশ বাড়ছে আতঙ্ক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ