


অতূণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: আজ, বুধবার পয়লা বৈশাখ। বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩’এর প্রথমদিন। কীরকম যাবে নতুন বছর, ভোটের বছর? উত্তর জানতে বাংলা বছর শেষে নতুন পঞ্জিকায় নজর। সারা বাংলায় প্রচলিত দুটি পঞ্জিকা। একটি সূর্যসিদ্ধান্ত প্রাচীন পঞ্জিকা, অপরটি দৃকসিদ্ধ মত বা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা। ভোট বছরে ভাগ্যলক্ষ্মী কার উপর প্রসন্ন হবেন, কী বলছে পঞ্জিকা, সে সব চর্চা চলবেই। সন্তানের বিয়ে, গৃহপ্রবেশ, অন্নপ্রাশনের দিন নির্ধারণের সঙ্গেই পঞ্জিকা হাতে নিয়ে আম বাঙালির অঘোষ আকর্ষণ—দুর্গাপুজোর সূচি, নির্ঘণ্ট! সাধারণভাবে দুর্গাপুজো ষষ্ঠীতে শুরু হয়ে দশমীতে শেষ হয়, চলে পাঁচ দিন ব্যাপী। তবে ১৪৩৩’এর শরৎকালীন দুর্গাপূজা এবার ছ’দিনের। দুটি পঞ্জিকা মতে, ২৮শে আশ্বিন, শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর দুর্গাপূজোর শুরু। একুশে অক্টোবর ৪ঠা কার্তিক হবে দশমী পূজা। শাস্ত্র অনুসারে, শুক্লপক্ষে যে তিথি সূর্যোদয়ের সময় থাকে সেই তিথি পালন করা হয়। এই রীতি মেনেই প্রাচীন পঞ্জিকা মতে এ বছর সপ্তমী পুজো দু’দিনের। দৃকসিদ্ধ অর্থাৎ বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে ২৯ ও ৩০ শে আশ্বিন এই দু’দিনের দুর্গাষষ্ঠী। পঞ্জিকা বিশারদরা বলছন, একই তিথির দ্বিতীয় দিন থাকায়, পুজোর সময় অতিরিক্ত। প্রাচীন পঞ্জিকা মতে সূর্যোদয়ের পর মহাষ্টমী পূজার জন্য বরাদ্দ মাত্র এক ঘন্টা ৪৭ মিনিট, সেদিন সকাল ৭টা ২৬ মিনিট থেকে শুরু হবে সন্ধি পূজা চলবে আটটা ১৪ মিনিট পর্যন্ত। সেই দিনই বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে শুরু হয়ে সন্ধিপুজো চলবে ১১টা ১৬ পর্যন্ত। ৪ঠা কার্তিক, ২১ অক্টোবর বুধবার দুটি পঞ্জিকা মতেই দশমী। তাই অন্যান্য বছর দুর্গাপূজো পাঁচ দিনের হলেও, এবছর তা হবে ছ’দিনের।
প্রাচীন পঞ্জিকা মতে মহাষ্টমীর জন্য বরাদ্দ স্বল্প সময় পুজোর ব্যাপারে সর্বভারতীয় প্রাচ্যবিদ্যা আকাদেমির অধ্যক্ষ ডক্টর জয়ন্ত কুশারি বলেন, স্বল্প সময় পুজোর কারণে পঞ্চব্যঞ্জন রান্না করা সম্ভব না হলেও, এই সময় পরমান্ন বা পায়েস দিয়ে দেবীকে ভোগ নিবেদনে পুজোয় কোন দোষ হবে না। এতে বিধি মেনে ভোগ নিবেদন করা হবে। দুর্গাপুজো একাধারে বিধিময়ী এবং তিথিময়ী পূজা। ১৪৩৩ সালে পঞ্জিকা নির্দিষ্ট সময় মেনে দুর্গা পূজোর বন্দোবস্ত করতে কিছুটা অসুবিধা হলেও, মা আমাদের কাছে একদিন অতিরিক্ত থাকছেন, এই আনন্দটা কম নয়।