নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে বীরভূমের সদর শহর সিউড়ি। সাবেকিয়ানা আর থিমের অভিনবত্বে দর্শনার্থীদের চমক দিতে এবার পুরোপুরি প্রস্তুত শহরের পুজো মণ্ডপগুলি। কোথাও মণ্ডপ সেজেছে ভূ-স্বর্গ কাশ্মীরের আদলে, কোথাও ফিরে এসেছে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ বাজার, আবার কোথাও উঠে এসেছে রাজনৈতিক সাফল্য গাঁথা।
এবার শহরের অন্যতম চর্চিত পুজোটি হচ্ছে সিউড়ির বিজেপি কার্যালয়ে। বীরভূম জেলা শ্যামাপ্রসাদ শারদ সমিতির পক্ষ থেকে আয়োজিত এই পুজোর এবারের থিম ‘বন্দে মাতরম’। আয়োজকদের দাবি, রাজ্যে সরকার গঠনের পর আরও বড়ো করে পুজো হচ্ছে। প্রায় ১৫-১৬ লক্ষ টাকা খরচ হবে। এই মণ্ডপে ডবল ইঞ্জিন এবং মোদি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সাফল্য গাঁথা তুলে ধরা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসাবে থাকছে ভারত মাতার একটি থ্রি-ডি প্রতিকৃতি।
৭৮ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে ময়ূরাক্ষী ইরিগেশন ক্লাবের পুজো। তাদের এবারের থিম ‘হাটে বাজারে’। বাজেট প্রায় আট লক্ষ টাকা। বর্তমান প্রজন্ম এখন মোবাইল বন্দি, অনলাইনে কেনাকাটায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় বাজারের প্রকৃত রূপ তারা ভুলতে বসেছে। সেই হারিয়ে যাওয়া সাইকেল সারাইয়ের দোকান, চায়ের আড্ডা বা সবজি বাজারের বিকিকিনির ছবি নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ইরিগেশনের মাঠে। পরিবেশবান্ধব খড়, বেত ও ঝুড়ি দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপে। পুজো কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত দাস বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে গ্রামীণ বাজারের আসল রূপ চেনাতেই আমাদের এই উদ্যোগ।’ এখানে প্রতিমা একেবারেই সাবেকি।
৫০ বছরে পা দিল সিউড়ির দত্তপুকুর পাড়া বর্ণালি ক্লাবের পুজো। সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে তাদের থিম ‘শ্রাবণ শেষে উমার ডাক’। শ্রাবণে দেবাদিদেব মহাদেব আর শরতে উমা— এই মেলবন্ধনকে তুলে ধরতে মণ্ডপ সাজানো হচ্ছে কৈলাশের আদলে। থার্মোকল ও স্পঞ্জ দিয়ে তৈরি এই মণ্ডপের ঠিক মাথার উপর থাকছে এক বিশালাকৃতির শিব। পিছিয়ে নেই মল্লিকগুনা পাড়ার সর্পধারিণী সংঘও। ২৪ তম বর্ষে তাদের থিম ‘ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর’। পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে মণ্ডপে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কাশ্মীরের বরফ ঢাকা পাথুরে পাহাড়ের সৌন্দর্য। সাত লক্ষ টাকা বাজেটের এই পুজোতেও মাতৃপ্রতিমা সাবেকি। পুজো কমিটির সম্পাদক তরুণ দাস বলেন, ‘সিউড়ির বুকে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীদের চোখের সামনে কাশ্মীরের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।’



