বাপ্পা রায়, মানবাজার: তৃণমূল জমানায় পুরুলিয়ার মানবাজারকে মহকুমা ঘোষণা করা হয়। এরপর ৯ বছর পেরোলেও তৈরি হয়নি মহকুমা হাসপাতাল। রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকারের আমলে মানবাজার পেতে চলেছে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। এর জন্য বৃহস্পতিবার মানবাজার শহর থেকে কিছু দূরে মানভূম মহাবিদ্যালয় সন্নিকটে জমি পরিদর্শন করেন বিধায়িকা ময়না মুর্মু সহ অন্য সরকারি আধিকারিকরা। কার্যত সেখানেই গড়ে উঠতে চলেছে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।
প্রসঙ্গত, মানবাজারের গ্রামীণ হাসপাতালের অবস্থা বেহাল। কাছাকাছি বড়ো কোনো হাসপাতাল নেই এলাকায়। তাই বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষকে চিকিৎসার জন্য পুরুলিয়া, বাঁকুড়া বা দূরবর্তী হাসপাতালে ছুটতে হয়। তাই মানবাজারে একটি আধুনিক হাসপাতালের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। গত সরকারের আমলে স্থানীয়দের দাবি কিন্তু পূরণ হয়নি।
বিজেপিও ভোটের আগে মানবাজারের হাসপাতালকে ইস্যু করে লড়েছিল। বিজেপি নেতৃত্বের দাবিও ছিল ক্ষমতায় এলে মানবাজারে মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়া হবে। এরপরে রাজ্যে পালাবদলের পর হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় পদ্মের সরকার।
ওই হাসপাতালের জন্য মানবাজার-বরাবাজার রাস্তায় মানভূম মহাবিদ্যালয়ের কাছাকাছি একটি জমি এদিন পরিদর্শন করেন সরকারি আধিকারিকরা। সরকারি ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন মানবাজারের বিধায়িকা ময়না মুর্মু, সঙ্গে ছিলেন মানবাজারের মহকুমা শাসক মানজার হোসেন আনজুম, মানবাজার ১ ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক সহ অন্যান্যরা। তাঁরা ওই জমির সব দিক খতিয়ে দেখেন। জানা গিয়েছে, কার্যত সেখানে হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর জন্য যাবতীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পরিদর্শনের পর মানবাজারের বিধায়িকা ময়না মুর্মু বলেন, শীঘ্রই মানবাজার মহকুমায় ওই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে উঠতে চলেছে। সেজন্য জমি পরিদর্শন করা হয়েছে। মানবাজারের মানভূম মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন ছয় বিঘার মতো একটি জায়গা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেখানেই গড়ে উঠবে হাসপাতাল।
এদিকে জমি পরিদর্শনের খবর ছড়াতেই মানবাজার মহকুমা জুড়ে খুশির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, এবার হয়তো ভোগান্তি দূর হতে চলেছে। মানবাজারের গোলকিডি গ্রামের বাসিন্দা সোমনাথ পাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মানবাজারে মহকুমা হাসপাতালের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু রাজ্যের প্রাক্তন সরকার তা করেনি। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহকুমা হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এটা খুবই ভাল উদ্যোগ। সিপিএমের মানবাজার বিধানসভার আহ্বায়ক ত্রিদিব চৌধুরী জানান, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি হলে সেটা ভাল কথা। কিন্তু জরুরি ভিত্তিতে আপাতত মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতালের উন্নয়ন প্রয়োজন। সেখানে চিকিৎসক, নার্স ও বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা খুবই দরকার।