সংবাদদাতা, ইসলামপুর: ইসলামপুরে প্রধান শিক্ষক শ্যুটআউট কাণ্ডে এবার স্পেশাল ইভেস্টিগেশন টিম (সিট) ঘটন করল পুলিশ। ঘটনার তদন্তে সব দিকই খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে পুলিশ। কিন্তু ঘটনার ৩৬ ঘন্টা পরেও দুষ্কৃতীরা অধরা রয়েছে। ফলে আতঙ্কে ভুগছেন ইসলামপুরের শিক্ষক মহল।
দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার চোপড়ার দুই সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসে স্মারকলিপি দেন শিক্ষকরা। দুষ্কৃতীরা দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে ইসলামপুর মহকুমার অন্যান্য কয়েকটি ব্লকের শিক্ষকরা একত্রিত হয়ে আন্দোলনে নামতে পারেন বলেও জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে ইসলামপুরের শ্রীকৃষ্ণপুর ও মাদারিপুরের মাঝামাঝি ২৭নম্বর জাতীয় সড়কে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত শিক্ষক নজরুল ইসলাম। তিনি চোপড়া সার্কেলের রাজা ভীম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ইসলামপুরের শহরের আশ্রমপাড়া সংলগ্ন পুরাতন স্টেশন বস্তি এলাকার বাসিন্দা। শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতেন। টিচার কো-অপারেটিভ সোসাইটির ডিরেক্টর বডির অন্যতম সদস্য ছিলেন। তাই তিনি চোপড়াতে বেশিরভাগ সময় কাটাতেন।
যে সমস্ত শিক্ষকেরা প্রতিদিন ইসলামপুর থেকে জাতীয় সড়ক ধরে চোপড়ার বিভিন্ন স্কুলে যান তাঁরাও এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত। চোপড়ার টিচার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সম্পাদক সামসের আলি বলেন, নজরুল সাহেব খুনের তিনদিন হলো। কিন্তু এখনও দুষ্কৃতীরা গ্রেপ্তার হল না। শিক্ষকরা আতঙ্কে আছেন। আজ নজরুল সাহেব খুন হলেন। কাল আমিও হতে পারি। এদিন প্রত্যেক স্কুলে এক মিনিট নিরবতা পালন করে শোক জ্ঞাপন করা হয়েছে। বিকালে চোপড়া নর্থ সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের মাধ্যমে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি, দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
চোপড়ার অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক বরুণ শিকদার বলেন, শিক্ষকেরা আমার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। সেটি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব। রাজা ভীম স্কুলে পঠনপাঠন চলছে।
শিক্ষকেরা বলছেন, চোপড়ায় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শনিবার থানায় স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। এবার এসপি’র সঙ্গে দেখা করে একই দাবি জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারিতে আরও দেরি হলে চোপড়ার সঙ্গে ইসলামপুর ও গোয়ালপোখরের শিক্ষককেরা একত্রে আন্দলনে নামতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
এসপি রাকেশ সিং বলেন, ঘটনার তদন্তের জন্য এসআইটি (সিট) গঠন করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
মৃতার স্ত্রী রুকসানা খাতুন বলেন, আমার স্বামীকে যারা খুন করেছে তাদের ফাঁসি চাই। দুষ্কৃতীরা ধরা পড়বে বলে পুলিশ আমাকে আশ্বাস দিয়েছে।