সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: শিক্ষকের বদলির নির্দেশ এসেছে। তা শুনেই কান্নায় ভেঙে পড়ল পড়ুয়ারা। মঙ্গলবার অণ্ডালের শ্রীরামপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনই দৃশ্য দেখা যায়। সরকারি বদলির নির্দেশে বিদ্যালয় ছাড়তে হবে শিক্ষক সন্দীপ কর্মকারকে। এই খবর পৌঁছতেই শ্রেণিকক্ষ যেন মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায়। বই-খাতা ফেলে ছুটে আসে পড়ুয়ারা। কেউ স্যারের হাত আঁকড়ে ধরে, কেউ পা জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কচি কণ্ঠে একটাই আবেদন, ‘স্যার, আপনি চলে যাবেন না।’ সেই আবেগে চোখ ভিজে ওঠে সহকর্মী থেকে অভিভাবকদেরও।
দীর্ঘ ১৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনের মধ্যে টানা ১৫ বছর এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন সন্দীপবাবু। অভিভাবকদের দাবি, একসময়ের অবহেলিত বিদ্যালয় তাঁর নিষ্ঠা, অধ্যাবসায় ও দূরদর্শিতায় নতুন পরিচয় পেয়েছে। শুধু পাঠদান নয়, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন, ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
এদিন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র প্রতীক ধীবর বলে, স্যার আমাদের সব বিষয় পড়াতেন। স্কুলটাও সুন্দর করে গড়ে তুলেছেন। উনি চলে গেলে আমরা খুব কষ্ট পাব।
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র দেবব্রত রায়ের কথায়, স্যারকে আমরা যেতে দেব না। উনি আমাদের খুব ভালবাসেন, আমরাও তাঁকে চাই।
অভিভাবিকা বৈশাখী মণ্ডল বলেন, যিনি একটি উপেক্ষিত বিদ্যালয়কে মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত করেছেন, তাঁকে হারানো আমাদের কাছে অপূরণীয় ক্ষতি।
তবে আবেগ সামলে সন্দীপবাবু বলেন, সরকারি নির্দেশ মেনেই তাঁকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের অকৃত্রিম এই ভালবাসাই তাঁর শিক্ষক জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান। সুযোগ পেলে আবারও এই বিদ্যালয়ে ফিরব।