Bartaman Logo
৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গেম পাগল আদিত্য সর্বস্ব খুইয়ে পা দেয় অর্পিতা-হামিমের ফাঁদে

অনলাইন গেমিং অ্যাপের নেশায় কাল হল হাওড়ার আদিত্য সিংয়ের। সর্বক্ষণ সে গেমে বুঁদ হয়ে থাকত। হেরে গেলে বিপুল টাকা লোকসান হতো।

গেম পাগল আদিত্য সর্বস্ব খুইয়ে পা দেয় অর্পিতা-হামিমের ফাঁদে
  • ৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অনলাইন গেমিং অ্যাপের নেশায় কাল হল হাওড়ার আদিত্য সিংয়ের। সর্বক্ষণ সে গেমে বুঁদ হয়ে থাকত। হেরে গেলে বিপুল টাকা লোকসান হতো। তখনই তাকে জালে জড়ায় পাকচর অর্পিতা-হামিম জুটি। প্রথমে হামিমের সঙ্গে পরিচয়। পরে সে অর্পিতার সঙ্গে তার আলাপ করিয়ে দেয়। অদিত্যকে দু’জনে আর্থিক সহয়তা দেওয়ার আশ্বাস দেয়। প্রতি মাসেই তাকে টাকা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। তবে টাকা পাওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত বেঁধে দেয়। তারা যখন যে টাস্ক দেবে, সেটা করতে বলা হয়। প্রথম পর্যায়ে তার কাজ ছিল হাওড়ার প্রতিমন্ত্রী এবং তাঁর ছেলের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করা। তাঁর বিভিন্ন মুহূর্তের ছবিও তুলে পাঠাতে বলা হয়। বহু তথ্য সে হামিমকে সরবরাহ করেছিল। বিনিময়ে টাকাও পেয়েছিল। প্রায় দিনই হামিম, অর্পিতা ভাট্টি গ্যাংয়ের রানা সহ কয়েকজনের সঙ্গে গ্রুপ কল করত। সেই কলে আদিত্যও ছিল। 

Advertisement

এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিম-অর্পিতা গেমিং অ্যাপের মাধ্যমেও অনেকের সঙ্গে পরিচিত হয়। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পাঞ্জাব, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লির যুবক রয়েছে। হামিম কয়েক দিন কথা বলে তাদের সঙ্গে অর্পিতার পরিচয় করিয়ে দিত। ভাট্টি গ্যাং নতুন নতুন সদস্য নিয়োগের জন্য চাপ দিত। স্মার্ট যুবক, যুবতীদের তারা বেছে নিত। টাকার টোপ দিয়েই তারা অনেককে প্রভাবিত করেছে।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এরাজ্যের আরও দু’জন হামিম গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য রয়েছে। হামিম, অর্পিতার সঙ্গে তাদেরও সুম্পর্ক ছিল। ওই দু’জনকেও জালে তুলতে গোয়েন্দারা এখন মরিয়া। তাদেরকে অন্য প্রভাবশালীদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। ঝাড়খণ্ডের কয়েকজন পাথর ব্যবসায়ীকে এই গ্যাং অপহরণ করার টার্গেট নিয়েছিল। ভাট্টি গ্যাং দুবাই থেকে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে তোলা চেয়ে হুমকি দেয়। কিন্তু তাদের কেউই থানায় অভিযোগ করেনি। তাদের মধ্যে কেউ হামিম এবং অর্পিতার মাধ্যমে টাকা দিয়েছে কিনা, তা গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন। 
ভাট্টি গ্যাংয়ের হদিশ এসটিএফ কীভাবে পেল? গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, আইএআই ভাট্টি গ্যাংকে দিয়ে বহুদিন ধরেই জাল বিছিয়েছিল। প্রথম দিকে তা টের পাওয়া যায়নি। কিন্তু, তাদের একটা থ্রেট কল গোয়েন্দাদের চোখ খুলে দেয়। হাওড়ার ওই জনপ্রতিনিধির কাছে টাকা চেয়ে বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে হামিম ফোন করে। ওই জনপ্রতিনিধি ঘাবড়ে না নিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এরপরই এসটিএফ তদন্ত শুরু করে। তারা হামিমের উপর নজরদারি চালাতে গিয়ে দেখে তার সঙ্গে পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠীর সম্পর্ক রয়েছে। তাকে পাকড়াও করতে বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। সেটা অবশ্য হামিম একবারের জন্যও টের পায়নি। সেই কারণে বান্ধবী সহ তাদের শ্রীঘরে যেতে হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ