Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিধায়ক চন্দনা বাউরির পদত্যাগ দাবি, আয়ুষ্মান ভারতের কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ আশাকর্মীদের

শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরির পদত্যাগ চাই। এই দাবিতে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কাজ বন্ধ রেখে মঙ্গলবার আশাকর্মীরা জেলার প্রায় প্রতিটি বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখান।

বিধায়ক চন্দনা বাউরির পদত্যাগ দাবি, আয়ুষ্মান ভারতের কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ আশাকর্মীদের
  • ৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরির পদত্যাগ চাই। এই দাবিতে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কাজ বন্ধ রেখে মঙ্গলবার আশাকর্মীরা জেলার প্রায় প্রতিটি বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখান। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাঁরা বিধায়কের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানান।। এদিকে গঙ্গাজলঘাটির মৃত আশাকর্মী রুম্পা মণ্ডলের পরিবারের সদস্যরা বিচার চেয়ে স্বাস্থ্য ভবনে যান। তাঁরা স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন। চন্দনা, মৃতার পরিবার এবং আশাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বিজেপি সূত্রের খবর, কয়েকজন দলীয় বিধায়কের আচরণ নিয়ে জেলা থেকে রাজ্যে রিপোর্ট গিয়েছে। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। দলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, দলের নজর বিধায়ক সহ সকলের উপরেই রয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যমকে অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কিছু বলব না। 

Advertisement

গত রবিবার নিজের গ্রাম গঙ্গাজলঘাটির কেলাই এলাকায় বিধায়ক কয়েকজন আশাকর্মীর উপর হম্বিতম্বি করেন। ভাইরাল ভিডিয়োতে বিজেপি বিধায়ককে বলতে শোনা যায়, আশাকর্মীরা চুরি করে চাকরি পেয়েছেন। এরই মধ্যে গঙ্গাজলঘাটির ভালুকটোলা গ্রামে আশাকর্মী রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে। বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভও দেখানো হয়। এদিন দুপুরে বিষ্ণুপুর বিডিও অফিসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন আশাকর্মীরা। তাঁরা শালতোড়ার বিধায়কের পদত্যাগ ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতেও সরব হন। একইভাবে কোতুলপুর, সোনামুখী সহ বিভিন্ন ব্লকে তাঁরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বিধায়ক চন্দনাদেবী বলেন, ‘কাউকে অসম্মান করার উদ্দেশ্য আমার ছিল না। আশাকর্মীদের সরকারি কাজ সুষ্ঠুভাবে করার জন্য বলেছিলাম। সকলে যাতে পরিষেবা পায়, জনপ্রতিনিধি হিসাবে তা দেখার অধিকার আমার রয়েছে।’ 
পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের বাঁকুড়া জেলা সভানেত্রী লীনা ঘোষ বলেন, ‘মা, শিশুদের নিয়েই আমাদের কাজ। সেই কাজের জন্য আমরা প্রশিক্ষিত। সরকার আমাদের দিয়ে অন্নপূর্ণা, আয়ুষ্মান ভারত সহ অন্যান্য প্রকল্পের সমীক্ষা, ফর্ম পূরণ, অনলাইনে ডেটা এন্ট্রির কাজ করিয়ে নিচ্ছে। ফলে মানসিক চাপ বাড়ছে। সেই কারণে আমরা এক সহকর্মীকে হারিয়েছি। মৃত আশাকর্মীর ভাশুর নিমাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমার ভাই প্রান্তিক চাষি। ভ্রাতৃবধূর আয়ে সংসার চলত। ভাইয়ের মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। সাহায্য করার ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্য জেলা ইউনিটের সম্পাদক সোমা মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রশিক্ষণ ছাড়াই আশাকর্মীদের আয়ুষ্মান ভারতের ই-কেওয়াইসি করতে বাধ্য করা হয়েছে। তবুও আমরা প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ করে ফেলেছি। তা সত্ত্বেও শালতোড়ার বিধায়ক আশাকর্মীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেছেন। আমরা এর প্রতিকার চাই। 
এদিকে, আন্দোলনের জেরে আশাকর্মীদের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। আয়ুষ্মান সহ অন্যান্য প্রকল্পের কাজ সামলানোর জন্য আশাকর্মীদের সঙ্গে সরকারি কর্মীদের যুক্ত করা হবে বলে বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত জানিয়েছেন। জেলাশাসক বলেন, কোনো আশাকর্মী কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে। আমরা চিকিৎসায় সবরকম সাহায্য করব। ইন্টারনেট নির্ভর কাজে সড়গড় নন এমন আশাকর্মীকে সংশ্লিষ্ট কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ