


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যেদিন দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেদিনই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার কার্য বিবরণীতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে আলোচনা হবে এসআইআর নিয়ে।
আজ, মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটাই শেষ অধিবেশন হতে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলের নজরে এবারের অধিবেশন। আজ বিধানসভার অধিবেশন শোকপ্রস্তাব জ্ঞাপন করে মুলতুবি হয়ে যাবে। বুধবার সরকারি ছুটি রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভার বাজেট পেশ করবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ওইদিন দুপুর আড়াইটায় রাজ্য বাজেট পেশ হবে বিধানসভায়। তার আগে সাড়ে ১২টায় বিধানসভায় ভাষণ দেবেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। রাজ্য বাজেটে এবার কী কী চমক থাকে, তা নিয়ে সকলরেই কৌতূহল তুঙ্গে। বাজেট পেশের পরদিনটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বিধানসভায়। ৬ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার এসআইআর কেন্দ্রিক আলোচনা হবে বিধানসভায়। রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় একটি প্রস্তাব এনেছেন বিধানসভায়। তা নিয়ে আলোচনা হবে ওইদিন। উল্লেখযোগ্য হল, এসআইআরে সাধারণ মানুষের হয়রানির বাস্তব ছবিটা সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনে তুলে ধরেছেন মমতা। মানুষের স্বার্থে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তিনি। এবার বিধানসভার অধিবেশেনেও এসআইআর প্রসঙ্গ নথিবদ্ধ করতে চলেছে রাজ্যের সরকার পক্ষ। ফলে বাজেট এবং এসআইআর আলোচনার দিন শাসক-বিরোধী তরজায় তপ্ত হওয়ার প্রবল সম্ভবনা বিধানসভায়।
অন্যদিকে, বিধানসভা ভোটের আগে এটাই শেষ অধিবেশন। ফলে ভোটকেন্দ্রিক আবহ এবং পরস্পরকে বিঁধে বক্তব্য শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে দেখা যাবেই বলেই অনুমান। কিন্তু বিধানসভার এবারের অধিবেশন সকলের সহযোগিতায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হোক, সেই আবেদন রেখেছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, সব বিধায়ক আলোচনায় অংশ নিন। কিন্তু অধিবেশন কক্ষের মধ্যে হট্টগোল করা, পোস্টার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো, কাগজ ছিঁড়ে ফেলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অধিবেশন শুরুর আগে সোমবার বিধানসভায় সর্বদলীয় বৈঠক থাকলেও বিজেপির কোনো বিধায়ক হাজির ছিলেন না। এমনকি বিধানসভার কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকেও যোগ দেননি বিজেপি বিধায়করা।