Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বামীর অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী এসআইআর: রেশমিনা

সুখের সংসারে এসআইআর যেন বিভীষিকা হয়ে নেমে এল রেশমিনা পারভীনের পরিবারে। এসআইআরের নোটিস বারবার পাওয়ায় প্রবল মানসিক চাপে ও আতঙ্কে ছিলেন স্বামী। বৃহস্পতিবার নিজের শোবার ঘরে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে স্বামী সফিউল হকের (৩৪)।

স্বামীর অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী এসআইআর: রেশমিনা
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট: সুখের সংসারে এসআইআর যেন বিভীষিকা হয়ে নেমে এল রেশমিনা পারভীনের পরিবারে। এসআইআরের নোটিস বারবার পাওয়ায় প্রবল মানসিক চাপে ও আতঙ্কে ছিলেন স্বামী। বৃহস্পতিবার নিজের শোবার ঘরে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে স্বামী সফিউল হকের (৩৪)। স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর থেকে ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে কেঁদেই চলছেন রেশমিনা। স্বামীর অকাল প্রয়াণে এসআইআর’কেই দায়ী করছেন তিনি। 

Advertisement

রেশমিনা বলেন, এসআইআরের নোটিস পাওয়ার পর থেকেই খুব টেনশনে ছিলেন স্বামী। রাতে ঘুমোতে পারতেন না। বৃহস্পতিবার আমাকে বিডিও অফিসে পাঠিয়ে ও ঘরে আত্মহত্যা করল। এসআইআর আমার স্বামীর প্রাণ কেড়ে নিল। সাড়ে তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে এখন কীভাবে চলব। 
সফিউলের দাদা আতাউল হকের অভিযোগ, এসআইআরের কারণেই ভাই আত্মহত্যা করেছে। শুনানি হওয়ার পর থেকেই প্রবল মানসিক চাপের মধ্যে ছিল ভাই। সবসময় চিন্তা করত, ওকে হয়তো জেলে পাঠিয়ে দেবে। খাওয়াদাওয়াও ঠিকমতো করত না। 
শুক্রবার সকালে শোকাহত পরিবারটির সঙ্গে গিয়ে দেখা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার-২ ব্লক সভাপতি শুভঙ্কর দে সহ ঢাংঢিংগুড়ি অঞ্চল নেতৃত্ব। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তাঁরা। মৃত সফিউল হকের পরিবারের দাবি, এসআইআরের প্রথম নোটিস পাওয়ার পর শুনানিতে যান সফিউল। কিন্তু সেখানে তাঁর কাছ থেকে শুধু কাস্ট সার্টিফিকেট নেওয়া হয়। সেই সময় সফিউল দেখেছিলেন অন্যদের কাছ থেকে আরো অনেক নথি নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে কাস্ট সার্টিফিকেট নেন আধিকারিকরা। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রবল মানসিক চাপে ও আতঙ্কে ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্ত্রীকে বিডিও অফিসে যেতে বলেন। তারপর ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। 
তৃণমূলের কোচবিহার-২ ব্লকের সভাপতি বলেন, এসআইআরের কারণে ঢাংঢিংগুড়ির বাসিন্দা সফিউল হককে অকালে প্রাণ দিতে হল। নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রান করছে। আমরা পরিবারটির পাশে আছি।

সম্পর্কিত সংবাদ