নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: একের পর এক রাজ্যে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, যথেচ্ছাচার এবং সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক অভিযানের অভিযোগ উঠছে। প্রত্যেক রাজ্য নিয়েই অভিযোগের পাহাড় জমছে সুপ্রিম কোর্টে। সোমবার মহারাষ্ট্রের এসআইআর অনিয়ম সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলায় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং ভি মোহনের বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করে হাজিরা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। মহারাষ্ট্রে এসআইআর নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সর্বোচ্চ আদালতে আবেদনে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রে ন’কোটি ভোটারের মধ্যে তিন কোটির বেশি ভোটার খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। যাদের মধ্যে ১ কোটি ২২ লক্ষ শুধু লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির শিকার। আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী অরবিন্দ দাতার আদালতে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন এই বাদ যাওয়া ভোটারদের এখন বলছে, ৬ নং ফর্ম পূরণ করে জমা করতে। কিন্তু যে ভোটার বহু বছর ধরে ভোট দিয়ে এসেছে তাঁদের আবার ফর্ম-৬ পূরণ করার নিয়ম কীভাবে থাকতে পারে? কারণ, এই ফর্ম নতুন ভোটার হিসাবে আবেদনের জন্য। ফর্ম-৬ পূরণ করার সময় একটি স্বেচ্ছা ঘোষণা করতে হয় যে, কোনওদিন ভোট দেয়নি আবেদনকারী। যাঁরা বহুবার ভোট দিয়েছেন, তাঁরা কীভাবে নতুন ভোটার হিসাবে আবেদন করতে পারেন? নির্বাচন কমিশন এখন নিজের অপরাধ আড়াল করতে নাগরিকদের অন্যায় ও বেআইনি কাজ করতে বলছে।
সর্বোচ্চ আদালতে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রের মোট ভোটারের ৩৩ শতাংশের নাম সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। আর সবথেকে বিস্ময়কর হল, মুম্বই ও পুনের সিংহভাগ এলাকায় ৪০ শতাংশ ভোটারের নামই বাদ। আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী বলেছেন, ৬ নভেম্বর হল নথিপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। সর্বোচ্চ আদালত নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য শোনার জন্য তাদের হাজির হতে বলেছে ৫ নভেম্বর। পাশাপাশি আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, যাঁরা সময়মতো নথিপত্র জমা দিতে পারছেন না, তাঁদের যথাযথ সময় দেওয়া হবে। কোনোরকম আইনি ব্যবস্থা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া যাবে না।



