বেঙ্গালুরু: কর্ণাটকে এসআইআর প্রক্রিয়ার অন্তর্গত ফর্ম ৭ আবেদন ঘিরে বড়ো বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, অতি অল্প সময়ে হাতে গোনা কয়েকজন হাজার হাজার ফর্ম ৭ পূরণের মাধ্যমে ভোটারদের নামে আপত্তি তুলছেন। নিশানা বানানো হয়েছে বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে। ফলে ফর্ম ৭-এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। মোট ফর্ম ৭-এর সংখ্যা নিয়েও ধন্দ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।
২৪ আগস্ট প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী ১৬ জুন থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৬৭ হাজার ৩০৭টি ফর্ম ৭ আবেদন পেশ হয়েছে। যদিও ২৫ সেপ্টেম্বর কর্ণাটকের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর জানায়, ৬১ হাজার ১৩০টি আবেদন জমা পড়েছে ও সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফর্ম ৭ সংক্রান্ত দুই তথ্যের মধ্যে প্রায় ৬ হাজারের ফারাক দেখা যাচ্ছে। কেন এই তফাত, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখনও কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। শুধু তাই নয়, অতি অল্প সময়ের মধ্যে আচমকা ফর্ম ৭ পেশের সংখ্যাবৃদ্ধির নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে নজরে চলে এসেছে বিজয়পুরার বাবালেশ্বর বিধানসভা ও বিদারের ভালকি বিধানসভা আসন। এই দুই বিধানসভা আসনে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পেশ হয়েছে ৩ হাজার ৯০৯টি ফর্ম। এর মধ্যে মাত্র ৩৮ জন আবেদনকারী ৩ হাজার ৭৫৭ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আর্জি পেশ করেছেন। যদিও এর আগে পর্যন্ত ওই দুই কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে মাত্র দশের নীচে আবেদন পেশ হয়েছিল।
বাবালেশ্বরে মাত্র সাতজন ১ হাজার ৩৭৩টি ও ভালকিতে ১০ জন ৩৮৪টি আবেদনপত্র পেশ করেছেন। কীভাবে মাত্র কয়েকজন ব্যক্তি এত অল্প সময়ের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র জমা দিল? তারা ভোটারদের সঠিক তথ্যই বা পেল কোথা থেকে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলছে না। আরও গুরুতর অভিযোগ হল, নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে পেশ হওয়া আবেদনগুলি সুনির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করে করা হয়েছে। অধিকাংশ আবেদনেই মুসলিম এবং ‘মাদার’ (দলিত) সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ভালকিতে দায়ের করা ৩৮৪টি আবেদনের মধ্যে ৩৪১টিই মুসলিম ভোটারদের বিরুদ্ধে বলে অভিযোগ। বেলাগাভি দক্ষিণ নির্বাচনি এলাকায় ২ হাজার ৫৯৮ জন সন্দেহভাজন ভুয়ো ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের দাবিতে বিজেপি বিধায়ক অভয় পাতিলের লেখা একটি চিঠি রাজনৈতিক মোড় নিয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি বিধায়ক সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যদিও এবিষয়ে পাতিলের ব্যাখ্যা, বুথ লেভেল এজেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহজনক ভোটারদের নাম নিয়ে তিনি তদন্ত চেয়েছেন।