Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআর আবহে আবাসনে হাওয়া বদল, বহু বছরের ‘অচেনা’ প্রতিবেশী আজ বন্ধু

পানিহাটির বহুতলে পাশাপাশি ফ্ল্যাটে মিত্রবাবু আর সান্যালবাবু পাঁচবছর ধরে থাকেন। পাঁচবারের বেশি দু’জনের কথা হয়নি।

এসআইআর আবহে আবাসনে হাওয়া বদল, বহু বছরের ‘অচেনা’ প্রতিবেশী আজ বন্ধু
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: পানিহাটির বহুতলে পাশাপাশি ফ্ল্যাটে মিত্রবাবু আর সান্যালবাবু পাঁচবছর ধরে থাকেন। পাঁচবারের বেশি দু’জনের কথা হয়নি। মনোমালিন্য নয়, তাঁরা আলাপ-পরিচয়ে বিশ্বাসীই নন। দমদমের মিসেস মুখার্জি ও মিসেস সেনের মর্নিং ওয়াকে রোজই দেখা হয়। কথা হয় না। বিচ্ছিন্ন থাকাই তাঁদের পছন্দ। পরস্পরের পাশে থাকলেও ভিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা তাঁরা। আচমকা মানুষগুলির স্বভাবে আমূল বদল। কারণ রোজকার অভ্যাসে জোর ধাক্কা দিয়েছে এসআইআর। ফলে অপরিচিতের গণ্ডি পেরিয়ে এখন এ ওর দিকে সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছেন। নথিপত্র খুঁজে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। ভোটার লিস্ট মিলিয়ে মিত্রবাবু দেখছেন সান্যালবাবুর নাম আছে কি নেই। গোটা উত্তর শহরতলিজুড়ে একই ছবি। অচেনা মানুষটা হঠাৎই হয়ে উঠছেন চেনা। পরম মিত্রও।   

Advertisement

পানিহাটিতে প্রৌঢ় রাজেশ সাউ প্রবীণ স্বরূপ ভট্টাচার্যকে বললেন, ‘আপনার পাশের ফ্ল্যাটেই থাকি। এতদিন পরিচয় হয়নি। আমার বাড়ি বিহারে। এখানে ২০০৫ থেকে ভোট দিচ্ছি। বিহারে আমার নাম নেই। এখন তালিকা আনতে কি বিহার যেতে হবে? সেখানে তো কেউ থাকে না।’ শুনে মুখ করুণ স্বরূপবাবুরও। জানালেন, ভোটার তালিকায় নাম তুলতে তাঁরও সমস্যা হবে। দুই প্রৌঢ় এসআইআর’এর চিন্তায় উদ্বিগ্ন। চললেন বিএলএ’র বাড়ি। এসআইআর ইস্যু বিহারের রাজেশকে আচমকা মিত্র বানিয়ে দিল বাংলার স্বরূপের। এখন সর্বত্রই অচেনা প্রতিবেশীরা একত্র হয়ে বিএলও বা বিএলএ’দের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। চিরকাল সববিষয়ে নিষ্পৃহ থাকা মানুষগুলিই একসঙ্গে ছুটছেন কাউন্সিলারের কাছে। 
পানিহাটিতে বিটি রোডের উপর ২০১৩ সালে তৈরি বিশাল আবাসন। আবাসনের মধ্যে দু’টি বুথ। ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২৬৬। দু’জন বিএলও এসআইআর’এর ফর্ম ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিচ্ছেন। অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ও তৃণমূলের বিএলএ অজয়কৃষ্ণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘আবাসনের প্রায় ৬০ ভাগ মানুষ ভিন রাজ্যে থাকতেন। চাকরি ও ব্যবসা শেষ করে এখন ফিরে এখানকার ভোটার। তাঁরা কোন নথি জোগাড় করবেন? কীভাবে নাম তালিকায় তুলবেন? এসব নিয়ে আতঙ্কে।’ পানিহাটির মতো বরানগর, কামারহাটি, উত্তর দমদম, দমদমের আবাসনগুলিরও একই ছবি।
এতদিন নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন যাঁরা, ভোটের বুথেও আসতেন না, সেই প্রতিবেশীরাই এখন এ ওর পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। দমদম রোডের এক আবাসনের বাসিন্দা বৃদ্ধ সুরজিৎ বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বললাম। তাঁরা অনলাইনে আমার নাম খোঁজার চেষ্টা করল। না পেয়ে কাউন্সিলার ও বিএলএ’র নম্বর দিল।’ দক্ষিণ দমদম পুরসভার সিআইসি (স্বাস্থ্য) সঞ্জয় দাস বলেন, ‘আবাসনের বাসিন্দারা পাশের ফ্ল্যাটের মানুষকেই চিনতেন না। ভোটের দিন বুথেও যেতেন না। তাঁরাই এখন সবাই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ