Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মতুয়াগড়ে এসআইআর ব্যুমেরাং বিজেপির, জয়ের ব্যবধানের থেকেও ‘বিচারাধীন’ ভোটার বেশি!

মতুয়াগড়ে বিজেপির ‘কনফার্ম’ ভোটে ব্যাংকেই এবার ধাক্কা! ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ মহকুমার চারটি আসনে যে ব্যবধানে এগিয়ে ছিল গেরুয়া শিবির, তার থেকেও বেশি ভোটার এখন ‘বিচারাধীন’

মতুয়াগড়ে এসআইআর ব্যুমেরাং বিজেপির, জয়ের ব্যবধানের থেকেও ‘বিচারাধীন’ ভোটার বেশি!
  • ৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: মতুয়াগড়ে বিজেপির ‘কনফার্ম’ ভোটে ব্যাংকেই এবার ধাক্কা! ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ মহকুমার চারটি আসনে যে ব্যবধানে এগিয়ে ছিল গেরুয়া শিবির, তার থেকেও বেশি ভোটার এখন ‘বিচারাধীন’ তালিকায়। এর সিংহভাগই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ, দাবি জেলা প্রশাসনের। যার জেরে বেজায় অস্বস্তিতে পদ্মশিবির। রাজনৈতিক মহলের দাবি, নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতির ‘খুড়োর কল’ ঝুলিয়ে  ঘিরে যাদের সমর্থন পেত বিজেপি, সেই মতুয়া ভোটারদের একটা বড় অংশ অনিশ্চয়তার তালিকায় থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্যে এনিয়ে নেতারা মুখ না খুললেও, একান্ত আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে পদ্মপার্টি যথেষ্ট চিন্তিত। ‘বিচারাধীন’ ভোটাররা এবার তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, সেই উত্তর এখনও অধরা। ফলে, বেশ ফাঁপড়ে গেরুয়া শিবির। শুধু মতুয়া জনগোষ্ঠীর লোকজনই নয়, তাঁদের সম্প্রদায়ের পাগলা, গোঁসাই-দলপতিদের নামও নির্বিচারে কাটা পড়েছে। রাজনীতির কারবারিদের যুক্তি, নাগরিকত্বের ইস্যু ঘিরে যে ভোটব্যাঙ্কের উপর ভর করে এলাকায় শক্ত জমি তৈরি করেছিল গেরুয়া শিবির, সেই সমীকরণেই এখন ফাটল ধরার শঙ্কা। আর সেই সুযোগে তৃণমূল গুটি সাজাচ্ছে। মতুয়া ভোট শুধু বনগাঁতেই নয়, পাশের নদীয়া সহ অনান্য জেলাতেও ফ্যাক্টার! 

Advertisement

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে বাগদা কেন্দ্রে বিজেপি এগিয়ে ছিল ৯৭৯২ ভোটে।  সেখানে এখন বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৫৯। বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রে বিজেপির লিড ছিল ১০ হাজার ৪৮৮। এখানে বিচারাধীন ভোটার ১২ হাজার ২৯৬। বনগাঁ দক্ষিণে বিজেপি এগিয়েছিল মাত্র ২ হাজার ৪ ভোটে। সেখানে বিচারাধীন তালিকায় নাম রয়েছে ১৩ হাজার ৪৪৭ জনের। আর গাইঘাটা কেন্দ্রে বিজেপির লিড ছিল ৯ হাজার ৫৭৮। এখানে বিচারাধীন ভোটার ২২ হাজার ২৭৮। জানা গিয়েছে, বনগাঁ মহকুমা দীর্ঘদিন ধরেই মতুয়া রাজনীতির ভরকেন্দ্র। এই অঞ্চলের ভোটারদের বড় অংশই পূর্ববঙ্গ থেকে আসা উদ্বাস্তু পরিবারের সদস্য। শুধু বনগাঁই কেন, পাশের রানাঘাট মহকুমার যে ন’টি আসন বিজেপির গড় বলে পরিচিত, সেখানেও বিচারধীন তালিকা দীর্ঘ থেকে  দীর্ঘতর হওয়ায় ‘সিঁদুরে মেঘ’ দেখছে পদ্মপার্টি। নাগরিকত্বের প্রশ্ন এই দুই এলাকাতেই  বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিজেপি এই ইস্যুকেই হাতিয়ার করে ভোটের অঙ্ক সাজিয়েছে বারেবারে। এই পর্বে তৃণমূলও রাজনৈতিক ফায়দা নিতে তৎপর। দলীয় সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের মধ্যে আলাদা করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কীভাবে এই ইস্যুকে সামনে এনে বিজেপিকে চাপে রাখা যায়, তা নিয়েই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে জোড়াফুল শিবির। এনিয়ে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্বের টোপ দিয়ে মতুয়া ভোটকে নিজেদের দিকে টেনেছিল, কার্যত ভোট ব্যাংক বানিয়ে নিয়েছিল। বিভিন্ন নির্বাচনে সেই ভোটের জোরেই গেরুয়া শিবির এলাকায় শক্ত ঘাঁটি তৈরি করে। সেই ভোট ব্যাংককে ‘ভরসা’ করেই তৃণমূলকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা ছিল বিজেপির। কিন্তু বাস্তবে তার প্রভাব উল্টে গিয়ে বিজেপিরই ঘাড়ে এসেছে, কোপ পড়েছে ‘কনফার্ম’ ভোটে। এনিয়ে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, এতে আমাদের কোনও ক্ষতি হবে না। তৃণমূলের কলকাঠিতে মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এবার তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত। মানুষ নীরবে ভোট দিয়ে ওদের হারাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ