Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

সইফের উপর হামলায় এবার  ধৃত বাংলাদেশি

সইফের উপর হামলায় এবার  ধৃত বাংলাদেশি
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
মুম্বই: সোশ্যাল মিডিয়া খুলতেই একটা খবরে চোখ আটকে গিয়েছিল—‘বান্দ্রার বাড়িতেই বলিউড তারকা সইফ আলি খানের উপর হামলা’। বুঝতে বাকি থাকেনি, গত রাতে সে কী করেছে! পুলিস তন্নতন্ন করে খুঁজছে তাকেই। ব্যস, শুরু হল পালিয়ে বেড়ানো। প্রথমে বান্দ্রা থেকে ট্রেনে চেপে মধ্য মুম্বইয়ের ওরলি। তারপর স্টেশন, ঝোপঝাড়, শ্রমিক বসতি— চলতে থাকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ। তবে শেষরক্ষা হল না। ফেসিয়াল রেকগনিশন, বাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সূত্র ধরে ৭০ ঘণ্টার মধ্যেই সইফের উপর হামলাকারী দুষ্কৃতীর কাছে পৌঁছে গেল পুলিস। রবিবার ভোরে থানে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মহম্মদ শরিফুল ইসলাম শেহজাদকে (৩০)। আর তারপরই সামনে এল চমকে ওঠার মতো এক তথ্য, ধৃত অভিযুক্ত বাংলাদেশি। খুব সম্ভবত ওপার বাংলার ঝালকাঠির বাসিন্দা। মুম্বই পুলিস জানিয়েছে, মাত্র পাঁচমাস আগে শিলিগুড়ি দিয়ে সে ভারতে ঢোকে। সেখানেই ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র বানায়। নিজের নাম বদলে বিজয় দাস রেখেছিল অভিযুক্ত। পরিচয় দিত মহম্মদ ইলিয়াস হিসেবেও। রবিবারই ধৃত শেহজাদকে মুম্বই আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক তাকে পাঁচদিন পুলিস হেফাজতে পাঠিয়েছেন।
Advertisement
বুধবার রাতের ঘটনার পর থেকেই ৩৫টি টিম নামিয়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছিল মুম্বই পুলিস। বিভিন্ন এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। ঘটনার পরে বান্দ্রা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে এক বাইক আরোহীকে দেখে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। সেই বাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির সাহায্যে শেহজাদকে চিহ্নিত করে পুলিস। দাদার স্টেশনের বাইরে তিনবার দেখা গিয়েছিল তাকে। কথা বলতে দেখা যায় ওরলির কোলিওয়াড়া এলাকায় একজন শ্রমিকের সঙ্গেও। ওই শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই খোঁজ মেলে শেহজাদের। জানা যায়, থানের একটি শ্রমিক বসতিতে সে রয়েছে। তার মোবাইলের টাওয়ার লোকেশনও সেদিকে ইঙ্গিত করে। তারপরই অভিযান শুরু করে পুলিস। এদিন ভোরে থানের হিরানন্দানি এস্টেটের কাছে একটি নির্মীয়মাণ মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন নির্জন এলাকার শ্রমিক বসতি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঝোপের আড়ালে লুকিয়েছিল শেহজাদ। তার ব্যাগ থেকে দড়ি, ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
পুলিসের দাবি, জেরার মুখে সইফের বাড়িতে হামলার কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত। তবে সেটা যে অভিনেতার বাড়ি, তা নাকি সে জানত না! চুরির উদ্দেশ্যেই পাইপ বেয়ে, বাথরুমের জানালা ভেঙে ঢুকেছিল। অভিনেতাকে কোপানোর পর সেই রাতে সে ঘুমিয়েছিল কাছের একটি বাসস্টপে। শেহজাদের আইনজীবী অবশ্য জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল বাংলাদেশের নাগরিক নয়। সে ও তার পরিবার মুম্বইয়ের বাসিন্দা। যদিও বিচারকের পর্যবেক্ষণ, ‘ধৃত বাংলাদেশি নাগরিক বলেই মনে হচ্ছে।’ সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ থেকে এখানে এসে হাউজ কিপিং এজেন্সিতে কাজ করত শেহজাদ। শনিবার ছত্তিশগড়ের দুর্গ স্টেশনে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে আকাশ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ