শিলিগুড়ি: শতবর্ষে পা দিল বিপ্লবীদের আনন্দময়ী কালীবাড়ি, পুজোয় মায়ের কাছে নিবেদন করা হবে ২০০ কেজির মৎস্যভোগ!
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ‘মৎস্যভোগ’! এজন্য শোল, রুই, বোয়াল মিলিয়ে জোগাড় করা হয় ২০০ কেজি মাছ! তা দিয়ে দু’রকম পদ-ভাজা ও ঝোল। ১০০ বছরের রীতি অনুসারে বিপ্লবী চারণ কবি মুকুন্দ দাস প্রতিষ্ঠিত শিলিগুড়ির আনন্দময়ী কালীমন্দিরের পুজোয় নিবেদন করা হবে এমন মৎস্যভোগ। সেইসঙ্গে ভোগে থাকছে হরেক পদ। খিচুড়ি, ঘণ্ট, পাঁচ রকম ভাজা, চাটনি, লুচি, পায়েস ও সুজি। তবে মায়ের কাছে বলি দেওয়া হবে চাল কুমড়া, আঁখ, কাঁচাকলা, আদা প্রভৃতি। এজন্য জোর প্রস্তুতি নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

শিলিগুড়ি তো বটেই উত্তরবঙ্গের প্রাচীন পুজোগুলির মধ্যে আনন্দময়ী কালীবাড়ির পুজো অন্যতম। প্রাচীন রীতি মেনে কার্তিকের অমানিশিতে মায়ের পুজোয় মৎস্যভোগ প্রদানের রেওয়াজ এখনও অঁটুট। কালীবাড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে, অমানিশির পুজোয় দরকার ২০০ কেজি মাছ। এজন্য রুই ১২০, বোয়াল ৫০ এবং শোল মাছ ৩০কেজি জোগাড় করা হবে। তা দিয়ে ভাজা, ঝোল তৈরি করে মায়ের কাছে নিবেদন করা হবে। 
আনন্দময়ী কালীবাড়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর বিশ্বাস বলেন, এত বিপুল পরিমাণ মাছ জোগাড় করতে অসুবিধা হয় না। বিগত বছরগুলির মতো এবারও ভক্তদের সহযোগিতায় সাহুডাঙি থেকে শোল এবং প্রতিবেশী রাজ্য বিহার থেকে রুই ও বোয়াল মাছ জোগাড় করা হবে। এর বাইরে মায়ের কাছে নিবেদন করা হবে খিচুড়ি, ঘণ্ট থেকে পাঁচ রকম ভাজা, চাটনি, লুচি থেকে সুজি, পায়েশ, মিষ্টি প্রভৃতি। মায়ের ভোগ বিলি করা হবে দর্শনার্থীদের মধ্যে। এছাড়া কুপনের মাধ্যমে মায়ের ভোগ বিলি করা হবে। ওই কুপনের মূল্য ৮০ টাকা। তাতে খিচুড়ি, সব্জি ও পায়েস থাকবে। আনন্দময়ী কালীবাড়ির শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশিস চৌধুরী বলেন, মন্দির ও পুজোর শতবর্ষ উপলক্ষ্যে এবার ভোগের আয়োজনে জোর দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের মধ্যে ভোগ বিলি করব।
শহরের টাউন স্টেশনের কাছে মহাবীরস্থানে মন্দিরটি। এটা বিপ্লবীদের কালীমন্দির হিসেবে পরিচিত। একদা এখানে ডেরা ছিল বিপ্লবীদের। তাঁরা শরীর চর্চার পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে সলা-পরামর্শ করতেন বলে কথিত রয়েছে। আনন্দময়ী কালীবাড়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, মহাবীরস্থান এলাকা ছিল জঙ্গলে ঢাকা। সেখানেই ছিল বিপল্পীদের ডেরা। তাঁরা সেখানে মায়ের আরাধনা করতেন। ১৯২৬ সালে এখানে আনন্দময়ী কালীমন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন বিপ্লবী চারণ কবি মুকুন্দ দাস।