নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: রাস্তার জন্য জমি ছাড়লে বাড়ি তৈরিতে বিশেষ সুবিধা পাবেন নাগরিকরা। শিলিগুড়ি শহরের রাস্তা চওড়া করার এমন পরিকল্পনা নিয়েছে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ। পুরসভা সূত্রে খবর, রাস্তার জন্য জমি ছাড়ালে বাড়ির প্ল্যান পাশের ফি থেকে ছাড় মিলবে ৫ শতাংশ টাকা। একইসঙ্গে অনিয়ম রুখতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সংরক্ষিত করবে বিল্ডিংয়ের নকশা। বিগত ১০ বছরের কয়েক হাজার বিল্ডিং প্ল্যান ডিজিটাইজেশন করবে। ইতিমধ্যে তারা এই প্রকল্পের কাজে হাত দিয়েছে।
উত্তরবঙ্গ তো বটেই রাজ্যের জনবহুল শহরগুলির মধ্যে শিলিগুড়ি একটি। এই শহরে রাস্তার অভাব দীর্ঘদিনের। এমনকী শহরের অনেক রাস্তা অত্যন্ত সংকীর্ণ। সেগুলি দিয়ে পাশাপাশি দু’টি ছোট গাড়ি কিংবা টোটো বা অটো চলাচল করতে পারে না। এমন সমস্যা দূর করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পুরসভা। তারা রাস্তা সম্প্রসারণে নাগরিকদের অংশ গ্রহণ করানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। মেয়র গৌতম দেবের অধীনে থাকা বিল্ডিং বিভাগ নাগরিকদের বাড়ি তৈরিতে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে।
মেয়র বলেন, সুপরিকল্পিত এবং ভিড়মুক্ত শহর গড়াই লক্ষ্য। এজন্য রাস্তা প্রশস্থকরণ জরুরি। এক্ষেত্রে দরকার নাগরিকদের অংশ গ্রহণ। তাই যে সমস্ত নির্মাণ প্রকল্পে ৫০০ বর্গ মিটারের বেশি জমি রয়েছে, সেই সব প্রকল্পের মালিকরা রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য পুরসভাকে জমি ছেড়ে দিলে তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হবে। তারা বিল্ডিং প্ল্যান ও সাইট প্ল্যান ফি থেকে ৫ শতাংশ অর্থ ছাড় পাবেন। সুপরিকল্পিত উন্নয়নে নাগরিকদের অংশগ্রহণ করাতেই এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শহরে জরাজীর্ণ বিল্ডিং নাগরিক সুরক্ষায় ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পুরসভা সূত্রে খবর, সেই ভবনগুলি ভেঙে নতুন ভবন গড়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিল্ডিং ভেঙে ভবনের পুনর্গঠনের জন্য মালিক কর্তৃপক্ষ আবেদন করতে পারে। আবদেনকারীদের পুনর্গঠনের প্ল্যান পাশের ফি থেকে ছাড়া দেওয়া হবে ২৫ শতাংশ অর্থ।
অন্যদিকে, শহরে ভবন নির্মাণের রেকর্ড সংরক্ষণ রাখা নিয়ে পুরসভার বিরুদ্ধে প্রশ্ন বহুদিনের। এর আগে একটি বিতর্কিত ভবন নিয়ে আদালতে মামলা হয়। সেই মামলায় আদালত বিতর্কিত ভবনের নকশা খুঁজে বের করার নির্দেশ দেয় পুলিসকে। কিন্তু তাদন্তকারী পুলিস অফিসাররা বহু খোঁজাখুঁজির পরও ওই ভবনের নকশা পাননি। এছাড়া বাড়ির প্ল্যান নিয়ে বিভিন্ন সময় অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। এ ধরনের সমস্যা দূর করতেই বিল্ডিং বিভাগ ডিজিটাইজেশন করা হচ্ছে।
পুরসভা সূত্রের খবর, বছর খানেক আগেই অনলাইনে বাড়ির প্ল্যান পাশ শুরু হয়েছে। এখন পুরনো বাড়ির নকশাগুলি ডিজিটাইজেশন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে গত দুই থেকে তিন বছরের পুরনো প্ল্যান ডিজিটাজেশন করা হচ্ছে। বিগত ১০ বছরের কয়েক হাজার বাড়ি প্ল্যান ডিজিটাইজেশন করা হবে। মেয়র বলেন, বিল্ডিং বিভাগের কাজের সুবিধার্থে ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এমন কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। এরপর নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে বিল্ডিং প্ল্যানের ডিজিটাল কপি পাবেন নাগরিকরা।