Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলিগুড়ি পুরসভা: ৩২ বছরে সাতজন প্রশাসক, তৃণমূল জমানাতেই পাঁচবার বদল

শিলিগুড়ি পুরসভায় ৩২ বছরে সাতজন প্রশাসক নিয়োগ হয়েছে, যার মধ্যে তৃণমূলের সময়েই পাঁচবার। রাজনীতির চাপানউতোর নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

শিলিগুড়ি পুরসভা: ৩২ বছরে সাতজন প্রশাসক, তৃণমূল জমানাতেই পাঁচবার বদল
  • ২৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি,শিলিগুড়ি: রাজনৈতিক সংকট পিছু ছাড়ছে না শিলিগুড়ি পুরসভার। প্রশাসন সূত্রে খবর, মিউনিসিপ্যালেটি থেকে কর্পোরেশনের স্বীকৃতি মেলার পর ৩২ বছরে প্রশাসক নিয়োগ হয়েছে সাতবার। যারমধ্যে তৃণমূল জমানাতেই সর্বাধিক, পাঁচবার। কখনও পরিচালন বোর্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায়, আবার কখনও বোর্ড ভেঙে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি হয়। এনিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। 

Advertisement

শিলিগুড়ি পুরসভা হয় ১৯৪৯ সালে। কর্পোরেশনের মর্যাদা পায় ১৯৯৪ সালে বামফ্রন্ট জমানায়। প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০০৪ সালে পুরবোর্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। তখন অতিরিক্ত জেলাশাসক নীলম মিনাকে প্রশাসক পদে বসায় সরকার। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল আসে। ২০১৪ সালের আগস্টে কংগ্রেস পরিচালিত পুরবোর্ড ভেঙে যায়। ১৯ আগস্ট প্রশাসক হিসাবে বসেন এসজেডিএ’র সিইও আর বিমলা।
এরপর ২০২০ সালে মে মাসে সিপিএম পরিচালিত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়। ১৮ মে প্রাক্তন মেয়র অশোক ভট্টাচার্যকে প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ করে তৃণমূল শাসিত রাজ্য সরকার। তিনি ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব সামলান। ওই বছর ১৮-২১ মার্চ প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন পুর কমিশনার সোনামওয়াংদি ভুটিয়া। এরপর সেই বছরই ২২ মার্চ থেকে ৬ মে পর্যন্ত প্রশাসক ছিলেন সুরেন্দ্র গুপ্তা। তারপর প্রশাসক পদে বসানো হয় গৌতম দেবকে। তাঁর মেয়াদকাল ছিল ২০২১ সালের ৭ মে থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। 
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পুরবোর্ড গঠন হয়। কয়েকদিন আগে সেই বোর্ড ভেঙে যাওয়ায় ফের প্রশাসক হিসাবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের সচিব আর বিমলাকে নিয়োগ করেছে বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকার। পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট ২০১৪-২০২১ পর্যন্ত তৃণমূল জমানায় প্রশাসক বসেছে পাঁচবার। 
সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য শরদিন্দু চক্রবর্তী বলেন, নির্বাচিত বোর্ড না থাকলে নাগরিক পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজের গতি থমকে যায়। তৃণমূলের অপদার্থতার জেরেই বারবার এমন সংকট তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতা অমিত জৈনের বক্তব্য, এরজন্য দায়ী তৃণমূল। আসলে ওদের উন্নয়ন লক্ষ্য ছিল না। তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি (সমতল) কুন্তল রায় অবশ্য বলেন, সিপিএম-বিজেপির অভিযোগ ঠিক নয়। ২০২০-’২১ পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করেছিল রাজ্য। এবার বিজেপি সরকার একতরফা প্রশাসক বসাল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ