নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এবার কি জম্মু ও কাশ্মীর এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সে ফাটল? সেরকমই ইঙ্গিত। শাসকদল ন্যাশনাল কনফারেন্সের ১৮ জন বিধায়ক বিদ্রোহের আভাস দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্য মাত্র দু’জন, দলের সভাপতি ফারুখ আবদুল্লা এবং মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। দলের এই দুই নেতা গণতান্ত্রিকভাবে দল ও সরকার চালাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলছেন বিদ্রোহী বিধায়করা। তাই তাঁরা মন্ত্রিসভার রদবদল এবং দলের সাংগঠনিক বদল চাইছেন। বিগত কিছুদিন ধরে ক্রমেই এই বিদ্রোহের সুর উচ্চগ্রামে উঠেছে। এমন সময় এই বিদ্রোহ, ঠিক যখন ওমর আবদুল্লার বিবাহ অনুষ্ঠান হচ্ছে কয়েকদিন ধরে। সুতরাং সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিদ্রোহীরা একের পর এক বৈঠক করেছেন শ্রীনগরে। ফলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে এই বিদ্রোহ আদতে আরও একটি বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলকে ভেঙে দু টুকরো করার অপারেশন লোটাস নয় তো? অর্থাৎ বিদ্রোহের পিছনে ইন্ধনদাতা বিজেপি নয় তো? তাই ফারুখ আবদুল্লা দ্রুত আসরে নামেন। শুক্রবার ফারুখ এবং ওমর আবদুল্লা দু’জনেই এই বিদ্রোহী ১৮ বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁদের দাবি ও অভিযোগ শোনেন। বৈঠকের পর ফারুখ বলেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেককে বলেছি যে, প্রতিটি অভিযোগকে আমরা খতিয়ে দেখব। তবে দলের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। আশা করা যায় সব ঠিক হয়ে যাবে।’
শিবসেনা ভেঙে দু’টুকরো। এনসিপি’ও ঠিক একইভাবে ভেঙে গিয়েছে। ভাঙন ধরেছে তূণমূলে। সেটি আবার তিনটি টুকরোয় বিভক্ত। একের পর এক ইন্ডিয়া জোটের দলগুলি ভেঙে যাচ্ছে। আর তাদের একটি অংশ সর্বদাই বিজেপির জোটসঙ্গী অথবা বন্ধু হয়ে যাচ্ছে। এবার সেই একই ফরমুলা জম্মু-কাশ্মীরে হতে চলেছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। কাশ্মীরে ৩৭০ নম্বর ধারার অবলুপ্তির পর প্রথম বিধানসভা ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে ন্যাশনাল কনফারেন্স। বহু বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে কাশ্মীরে কোনো সরকারই ৫ বছর টিকছে না। এই নতুন সরকারের অন্দরেও শুরু হয়ে গেল গোলমাল।



