বেঙ্গালুরু: আড়াই বছর করে মুখ্যমন্ত্রী পদের ভাগাভাগি। এই গোপন ‘ডিল’ নিয়েই নাকি যত গণ্ডগোল! নেপথ্যে দুই কুশীলব। সিদ্ধারামাইয়া এবং ডি কে শিবকুমার। কর্ণাটক কংগ্রেসে পর্দার আড়ালে তিন বছর ধরে চলা কুর্সি দখলের এই লড়াইয়ে আপাতত যবনিকা পড়ল। বৃহস্পতিবার লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের দপ্তরে মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফাপত্র পেশ করলেন সিদ্ধারামাইয়া। জানিয়ে দিলেন, গোড়া থেকেই বলে এসেছি হাইকমান্ড যেদিন বলবে সরে যাব। সেই অনুযায়ী পদত্যাগ করছি। হাইকমান্ডের ইচ্ছাতেই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী শিবকুমার। মুখ্যমন্ত্রী পদে বদল সত্ত্বেও দল যে ঐক্যবদ্ধ, সকাল থেকে সেই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলেছে কংগ্রেসের তরফে। প্রকাশ্যে সিদ্ধারামাইয়াও সেই ছবিই তুলে ধরেছেন। যদিও এখন সিদ্ধারামাইয়ার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নিশ্চিতভাবেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। সূত্রের খবর, ভবিষ্যতের আশঙ্কা এড়াতে সিদ্ধারামাইয়াকে জাতীয় রাজনীতিতে স্থানান্তরিত করতে চেয়েছিল কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। সিদ্ধারামাইয়া নিজেও জানিয়েছেন, রাজ্যসভার সদস্যপদের প্রস্তাব ছিল। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দিয়েছেন, বিধায়ক পদ থাকা পর্যন্ত রাজ্য রাজনীতিতেই থাকবেন।
মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তনের জেরে সিদ্ধারামাইয়া শিবির বিমর্ষ হলেও খুশির হাওয়া শিবকুমার সমর্থকদের মধ্যে। এবিষয়ে সোমবার থেকে শুরু হওয়া জল্পনাই যে সত্যি হতে চলেছে, এদিন সকালে নিজের বাসভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠক ও প্রাতঃরাশের আয়োজনেই তা স্পষ্ট করে দেন সিদ্ধারামাইয়া। বিজেপির আক্রমণ এড়াতে প্রদেশ কংগ্রেস তড়িঘড়ি আসরে নেমে পড়ে। দলের ঐক্যবদ্ধ চেহারা তুলে ধরতে প্রদেশ কংগ্রেসের এক্স হ্যান্ডলে সিদ্ধারামাইয়ার বাড়ির সেই বৈঠকের ছবি পোস্ট করা হয়। সেখানে দেখা যায়, বিদায়ী ও ভাবী মুখ্যমন্ত্রী পরস্পরকে জড়িয়ে ধরেছেন। সিদ্ধারামাইয়ার পা ছুঁয়ে প্রমাণ করছেন শিবকুমার। সেই ছবির সঙ্গেই লেখা হয়, ‘একতাই আমাদের শক্তি। জনসেবা আমাদের চিরন্তন অঙ্গীকার।’
মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেওয়ার পর শিবকুমারকে পাশে নিয়েই সাংবাদিক সম্মেলন করেন সিদ্ধারামাইয়া। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সততার সঙ্গে কাজ করেই আমি সন্তুষ্ট। সাম্প্রয়ায়িক শক্তি ও সংবিধান বিরোধীদের বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।
তথাকথিত ‘আড়াই বছরে’র ফরমুলা মেনে মুখ্যমন্ত্রী বদলের জন্য বেশ কয়েকমাস ধরে শীর্ষ নেতৃত্বের উপর চাপ বাড়াচ্ছিল শিবকুমার শিবির। কিন্তু, সরকারের স্থায়িত্বের প্রশ্নে সিদ্ধারামাইয়ার মতো অতি প্রভাবশালী নেতাকে সরানো হাইকমান্ডের পক্ষে সহজ ছিল না। তাহলে বরফ গলল কীভাবে? কংগ্রেস সূত্রের দাবি, এর নেপথ্যে নাকি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন খোদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। শিবকুমারকে সামনে এনে ২০২৮ সালের বিধানসভা ভোটে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু, জাতীয় রাজনীতিতে স্থানান্তরে ‘অনাগ্রহী’ সিদ্ধারামাইয়ার পরবর্তী ভূমিকাই এখন চর্চার কেন্দ্রে।