নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নতুন সিম কেনা বা আধার সংশোধনের কাজ করতে গেলে সাবধান! শহরের সাইবার কাফেগুলিই পেতে রেখেছে ফাঁদ। বায়োমেট্রিক মেশিনে কারসাজিতে গ্রাহকের নামে রেজিস্টার হয়ে যাচ্ছে একের বেশি সিম কার্ড। ভুয়ো সিম বিক্রি হয়ে যাচ্ছে সাইবার প্রতারকদের ‘বাজারে’, এমনকী ভিনদেশেও। খাস কলকাতায় চলা একটি বড় চক্রকে পাকড়াও করেছে লালবাজার। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস জেনেছে, প্রতিটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট ‘বিক্রি’র দর হাজার টাকা। গ্রাহকের আঙুলের ছাপ জাল করে চড়া দামে সিম বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বিদেশে। আমজনতার আঙুলের ছাপ বেচে চুটিয়ে কালোবাজারি চলছে পয়েন্ট অব সেল বা পিওএস সেন্টারগুলিতে।
Advertisement
কলকাতা পুলিস সূত্রে খবর, বেলেঘাটা ও তিলজলা থানা এলাকায় দু’টি পিওএস সেন্টারে হানা দেয় লালবাজার। দু’টি জায়গা থেকে মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হেফাজতে নিয়ে তাঁদের দিনভর জেরা করা হয়। সাইবার বিভাগের অফিসারদের ধৃতরা জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিপুল সংখ্যায় জাল সিমকার্ড সরবরাহ করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া রাজেশ মাহাত নামে সিম বিক্রেতার ফোন থেকে বেশকিছু আন্তর্জাতিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে পুলিস। মূলত থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় খাস কলকাতার সাইবার কাফে থেকে বিক্রি হয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতি করা সিমগুলি। বিদেশ থেকে প্রতি ফিঙ্গারপ্রিন্ট বাবদ টাকা ঢুকছে এরাজ্যে। কিন্তু, এখানেই খটকা তদন্তকারীদের মনে। ভারতীয় সিম বিদেশের মাটিতে তো অ্যাক্টিভেট করা সম্ভব নয়। তাহলে বিদেশ থেকে চড়া দামে ভারতীয় সিম কেনা হচ্ছে কেন? আন্তর্জাতিক সাইবার চক্রের যোগসূত্র রয়েছে বলে অনুমান কলকাতা পুলিসের সাইবার বিভাগের আধিকারিকদের।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন সংস্থার ভারতীয় সিম বিদেশে গেলেও, তা কোনও কাজ করবে না সেখানে। ঘুর পথে বেআইনিভাবে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মায়ানমার থেকে সিম এদেশেই ঢুকছে। নাহলে এই সিম পরিষেবার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। পুলিসের দাবি, বর্তমানে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও অনলাইন প্রতারণার তদন্তে দেখা গিয়েছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজই হয় জাল সিমে। ফলত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রতারক পর্যন্ত পৌঁছনোই সম্ভব হয় না। লালবাজারের আশঙ্কা, সাইবার প্রতারণার পাশাপাশি অনেকক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ভুয়ো নামে তোলা সিম ব্যবহার করেন বেআইনি অনুপ্রবেশকারীরাও। জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছেও এই সিম যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে লালবাজার। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা জেরায় স্বীকার করেছে, গত তিন বছর ধরে সিম পাচারের ব্যবসা ফেঁদে বসেছে কলকাতার পয়েন্ট অব সেল সেন্টারগুলি। এই সময়কাল ধরে কলকাতা থেকে বিদেশে পাচার হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতির সিম কার্ড। গতবছরের শেষের দিকে মায়ানমারের এক মহিলাকে ভুয়ো সিম কার্ড বিক্রির অভিযোগে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই দুই চক্রের সঙ্গে কোনও যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ বলে জানিয়েছেন কলকাতা পুলিসের ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দাপ্রধান রূপেশ কুমার। তিনি বলেন, মঙ্গল ও বুধবারের অভিযান মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৭০০ প্রি-অ্যাক্টিভেটেড ও নন-অ্যাক্টিভেটেড সিম কার্ড মিলেছে। কিন্তু, কত সিম কার্ড এখনও পর্যন্ত বিদেশে বিক্রি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। ধৃতদের জেরা করে সেই সংখ্যাটি জানার চেষ্টা চলছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন সংস্থার ভারতীয় সিম বিদেশে গেলেও, তা কোনও কাজ করবে না সেখানে। ঘুর পথে বেআইনিভাবে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মায়ানমার থেকে সিম এদেশেই ঢুকছে। নাহলে এই সিম পরিষেবার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। পুলিসের দাবি, বর্তমানে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও অনলাইন প্রতারণার তদন্তে দেখা গিয়েছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজই হয় জাল সিমে। ফলত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রতারক পর্যন্ত পৌঁছনোই সম্ভব হয় না। লালবাজারের আশঙ্কা, সাইবার প্রতারণার পাশাপাশি অনেকক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ভুয়ো নামে তোলা সিম ব্যবহার করেন বেআইনি অনুপ্রবেশকারীরাও। জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছেও এই সিম যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে লালবাজার। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা জেরায় স্বীকার করেছে, গত তিন বছর ধরে সিম পাচারের ব্যবসা ফেঁদে বসেছে কলকাতার পয়েন্ট অব সেল সেন্টারগুলি। এই সময়কাল ধরে কলকাতা থেকে বিদেশে পাচার হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতির সিম কার্ড। গতবছরের শেষের দিকে মায়ানমারের এক মহিলাকে ভুয়ো সিম কার্ড বিক্রির অভিযোগে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই দুই চক্রের সঙ্গে কোনও যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ বলে জানিয়েছেন কলকাতা পুলিসের ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দাপ্রধান রূপেশ কুমার। তিনি বলেন, মঙ্গল ও বুধবারের অভিযান মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৭০০ প্রি-অ্যাক্টিভেটেড ও নন-অ্যাক্টিভেটেড সিম কার্ড মিলেছে। কিন্তু, কত সিম কার্ড এখনও পর্যন্ত বিদেশে বিক্রি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। ধৃতদের জেরা করে সেই সংখ্যাটি জানার চেষ্টা চলছে।



