নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও কলকাতা: সোদপুরের যুবতীকে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত যৌন কারবারের ‘মক্ষীরানি’ ডোমজুড়ের শ্বেতা খান পুলিসকে বিভ্রান্ত করতে নতুন পন্থা অবলম্বন করছে। নির্যাতিতা যুবতীকে নিজের ‘পুত্রবধূ’ দাবি করে শ্বেতা বৃহস্পতিবার বলেছে, ‘শাশুড়ি হিসেবে বউমাকে শাসন করেছি মাত্র। আমার বউমাকে আমি মারব না তো, কে মারবে!’ বুধবার রাতে আলিপুর মহিলা সংশোধনাগারের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শ্বেতা খানকে। তার কয়েক ঘণ্টা আগে দুপুরে গল্ফগ্রিনের করবাগান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শ্বেতার ছেলে অন্যতম অভিযুক্ত আরিয়ান খানকে। তদন্তকারীরা বলছেন, গ্রেপ্তারের পর জেরা পর্বে মা ও ছেলে দু’জনেই নানারকম বয়ান দিচ্ছে। নিজেদের বাঁচাতে নানা গল্পও ফাঁদছে। প্রশ্নের জবাবে তারা এমন উত্তর দিচ্ছে, যার অধিকাংশই বিভ্রান্তিমূলক। সোদপুরের যুবতীকে পুত্রবধূ দাবি করাটাও সেরকমই এক বয়ান বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। শ্বেতার এই নয়া দাবিকে অবশ্য নস্যাৎ করেছে নির্যাতিতার পরিবার। অত্যাচারিত যুবতীর এক পিসতুতো ভাই বলেছেন, বাঁচার জন্য ওরা (শ্বেতা-আরিয়ান) এখন ভিত্তিহীন দাবি করছে। দিদিকে জোর করে আটকে রেখে নৃশংস অত্যাচার করেছে। দিদি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। আর কিছুদিন ডোমজুড়ের বাঁকড়ায় আটকে থাকলে, দিদি ওখানেই মারা যেত। মনুষ্যরূপী ওই পশুদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই। এদিন শ্বেতা খানকে হাওড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক গৈরিক রায় তাকে পুলিস হেফাজতে পাঠিয়েছেন। আগামী ২০ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি। বুধবারই আদালত আরিয়ান খানকে পুলিস হেফাজতে পাঠিয়েছে।



