Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ও আমার বউমা, শাসন করব না!’ সোদপুরের নির্যাতিতার পরিচয় নিয়ে পুলিসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা শ্বেতার

‘ও আমার বউমা, শাসন করব না!’ সোদপুরের নির্যাতিতার পরিচয় নিয়ে পুলিসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা শ্বেতার
  • ১৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও কলকাতা: সোদপুরের যুবতীকে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত যৌন কারবারের ‘মক্ষীরানি’ ডোমজুড়ের শ্বেতা খান পুলিসকে বিভ্রান্ত করতে নতুন পন্থা অবলম্বন করছে। নির্যাতিতা যুবতীকে নিজের ‘পুত্রবধূ’ দাবি করে শ্বেতা বৃহস্পতিবার বলেছে, ‘শাশুড়ি হিসেবে বউমাকে শাসন করেছি মাত্র। আমার বউমাকে আমি মারব না তো, কে মারবে!’ বুধবার রাতে আলিপুর মহিলা সংশোধনাগারের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শ্বেতা খানকে। তার কয়েক ঘণ্টা আগে দুপুরে গল্ফগ্রিনের করবাগান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শ্বেতার ছেলে অন্যতম অভিযুক্ত আরিয়ান খানকে। তদন্তকারীরা বলছেন, গ্রেপ্তারের পর জেরা পর্বে মা ও ছেলে দু’জনেই নানারকম বয়ান দিচ্ছে। নিজেদের বাঁচাতে নানা গল্পও ফাঁদছে। প্রশ্নের জবাবে তারা এমন উত্তর দিচ্ছে, যার অধিকাংশই বিভ্রান্তিমূলক। সোদপুরের যুবতীকে পুত্রবধূ দাবি করাটাও সেরকমই এক বয়ান বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। শ্বেতার এই নয়া দাবিকে অবশ্য নস্যাৎ করেছে নির্যাতিতার পরিবার। অত্যাচারিত যুবতীর এক পিসতুতো ভাই বলেছেন, বাঁচার জন্য ওরা (শ্বেতা-আরিয়ান) এখন ভিত্তিহীন দাবি করছে। দিদিকে জোর করে আটকে রেখে নৃশংস অত্যাচার করেছে। দিদি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। আর কিছুদিন ডোমজুড়ের বাঁকড়ায় আটকে থাকলে, দিদি ওখানেই মারা যেত। মনুষ্যরূপী ওই পশুদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই।  এদিন শ্বেতা খানকে হাওড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক গৈরিক রায় তাকে পুলিস হেফাজতে পাঠিয়েছেন। আগামী ২০ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি। বুধবারই আদালত আরিয়ান খানকে পুলিস হেফাজতে পাঠিয়েছে। 

Advertisement

এদিকে, বুধবার দুপুরে দক্ষিণ শহরতলির নরেন্দ্রপুর থেকে পুলিস উদ্ধার করে এই মামলায় বহু চর্চিত শ্বেতার ১৩ বছরের পালিতা কন্যাকে। নরেন্দ্রপুরের যে বাড়িতে সে ছিল, সেখান থেকে পুলিস উদ্ধার করেছে তিন বছরের এক শিশু কন্যাকেও। এই বিষয়ে জেরায় শ্বেতা পুলিসকে বলেছে, নরেন্দ্রপুর থেকে উদ্ধার হওয়া ওই শিশু কন্যাটি তার নিজের সন্তান। সোদপুরের যুবতীর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পালিয়ে বেড়ানোর পর্বে নাবালিকা পালিতা মেয়ে ও শিশু কন্যাকে নিজের সঙ্গে রাখতে চাইনি। তাই এক পরিচিতের আশ্রয়ে রেখেছিলাম। তদন্তকারীরা বলছেন, এখনও শ্বেতার পালিতা কন্যার পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি, তার উপরে এই শিশু কন্যার পরিচয় নিয়েও নতুন ধন্দ তৈরি হচ্ছে। শ্বেতা তাকে নিজের সন্তান বলে দাবি করলেও, এখনই পুলিস তাতে ভরসা করছে না। ইতিমধ্যেই শ্বেতার বিরুদ্ধে সেক্স র‌্যাকেট পরিচালনা, চাকরির টোপ দিয়ে বেকার যুবতীদের অশ্লীল ছবিতে অভিনয়ে বাধ্য করা, বেআইনি অস্ত্রের কারবারের মতো অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে কি গরিব ঘরের যুবতী মেয়েদের সারোগেট পদ্ধতিতে গর্ভবতী করে সন্তান প্রসবে বাধ্য করানোর নতুন কোনও কারবার বা শিশু বিক্রির কোনও চক্রের সঙ্গেও যুক্ত ছিল ‘মক্ষীরানি’ শ্বেতা খান? তদন্ত পর্বে সে প্রশ্নের উত্তরও খুঁজে দেখতে চাইছে পুলিস।     

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ