সৌমেন্দুকে মাথায় রেখে পাঁচ জনের কমিটি গড়লেন শুভেন্দু
  • ২৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রাম আসন ছেড়েছেন  মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই হবে উপনির্বাচন। তারজন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন তিনি। নিজের গড় মজবুত করার জন্য কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীকে মাথায় রেখে পাঁচজন বিধায়কের বিশেষ টিম গড়ে দিলেন। রবিবার নন্দীগ্রামে ধন্যবাদজ্ঞাপন সভা থেকে এই বিশেষ টিম গঠনের কথা শুভেন্দুবাবু। নন্দীগ্রাম বিধানসভার পাঁচটি মণ্ডলের দায়িত্ব তাঁরা সামলাবেন।

Advertisement

এদিন বিকাল ৫টা নাগাদ ধন্যবাদজ্ঞাপন সভায় যোগ দেন শুভেন্দুবাবু। ভিড়ে ঠাসা সভা থেকে তিনি বলেন, সংবিধানের নিয়ম মেনে ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম ছাড়তে হয়েছে। বিচলিত হবেন না। শুভেন্দু অধিকারী আপনাদের সঙ্গে ছিল, আছে এবং থাকবে। আপাতত দায়িত্ব অনেক। মোদিজির আশীর্বাদ ও সাহায্য নিয়ে নতুন করে রাজ্যকে দাঁড় করাতে হবে। অনেক মানুষ স্বপ্ন দেখছে। আমরা কাজ শুরু করেছি। বিজেপির কথা এবং কাজের মধ্যে মিল রয়েছে। আমরা যা বলি ভেবে বলি। আর, যেটা বলি সেটা করি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছি, সব বকেয়া কাজ চালু করতে হবে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে বলেছি, দ্রুত ১০০দিনের কাজ চালু করে উন্নয়নের কাজ মানুষকে পৌঁছে দিতে হবে। কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা ভরসা রাখুন। পাঁচ বছরের মিথ্যা মামলা নিয়ে কোনো চিন্তা করবেন না। আগের সরকার চারহাজার কর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। শুধু সব কা সাথ সব কা বিকাশ হবে, এমনটা ভাববেন না। সব কা হিসাবও হবে। তবে, হাতে আইন তুলবেন না। এখনও গুন্ডাগুলো বাড়িতে আছে। চাইলে আপনারা ইট খুলে নিতে পারেন। কিন্তু, বিজেপি এই কাজ করে না। এদের জায়গা হবে জেল। আমি একটাকেও ছাড়ব না। 
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই রাজ্যের যে বেহাল অবস্থা, সেখান থেকে বের করে আনতে হবে। শিক্ষিত যুবক-যুবতী কর্মসংস্থান চায়। সাধারণ মানুষ শিল্প চায়। কৃষক ফসলের দাম চায়। মহিলারা সুরক্ষা চায়। মানুষ সরকারি হাসপাতালে সুষ্ঠু পরিষেবা চায়। পরিস্রুত পানীয় জল, আরও ভালো রাস্তা ও সেতু চায়। রাজ্যে সুষ্ঠু গণতন্ত্রের পরিবেশ দেখতে চায় মানুষ। পুলিশ নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করুক। বাংলায় ভারতীয়রা থাকুক। অভারতীয়রা বাইরে চলে যাক। ধর্মপালনের জন্য যেন আদালতে যেতে না হয়। একটা পরিচ্ছন্ন সমাজ ব্যবস্থা চায় মানুষজন। আমরা সেই কাজটাই করব। অনেক কাজ করতে হবে। অনেক সময় দিতে হবে।
তিনি বলেন, কোষাগারের বেহাল অবস্থা। আপনাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে পূরণ করতে হবে। এই সরকারের অনেকের স্বপ্ন রয়েছে। তা পূরণ করতে হবে। হাসপাতালে রেফার বন্ধ করতে হবে। রাত বিরেতে পরিষেবা যাতে মেলে, সেটা আমি করব। কেন্দ্রীয় সরকার দু’হাতে সাহায্য করছে। আশা করি, আমাদের এই সোনার বাংলাকে কিছুদিনের মধ্যে দাঁড় করিয়ে দিতে পারব।