মুম্বই: টেস্টে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা এখন প্রাক্তন। শুভমান গিলের হাত ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে শুরু হতে চলছে নতুন অধ্যায়। ইংল্যান্ড সফরই অ্যাসিড টেস্ট গৌতম গম্ভীরের দলের। মেগা সিরিজের জন্য শুক্রবারই জো রুটদের দেশে রওনা দেবে ভারতীয় দল। তার আগে বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক প্রশ্নের জবাব দিলেন ক্যাপ্টেন শুভমান গিল ও কোচ গৌতম গম্ভীর। তরুণ অধিনায়ক গিল জানিয়ে দিলেন, রোহিত-বিরাটদের জুতোয় পা গলাতে তিনি তৈরি। ক্যাপ্টেনের মন্তব্য, ‘ভারতীয় ক্রিকেটে বিরাট ও রোহিতের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের অভাব পূরণ করা অবশ্যই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তার জন্য আমি তৈরি। প্রত্যেক ক্রিকেটারই চাপ নিতে অভ্যস্ত। ক্যাপ্টেন হিসেবে আপাতত নির্দিষ্ট কোনও দর্শন নেই। অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে আরও পরিণত হওয়াই থাকবে লক্ষ্য।’ উল্লেখ্য, ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজের নামও পরিবর্তন হতে চলেছে। এতদিন নাম ছিল পতৌদি ট্রফি। ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমে খবর, তা বদলে হতে পারে তেন্ডুলকর-অ্যান্ডারসন ট্রফি।
সাংবাদিক সম্মেলনে কোচ গম্ভীরকেও ভারতীয় ক্রিকেটের ‘নতুন সূচনা’ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে ক্যাপ্টেনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে টিম ইন্ডিয়ার হেডস্যারের জবাব, ‘নতুন সূচনা কিনা বলতে পারব না। তবে প্রত্যেক সিরিজের আগে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হয়। ইংল্যান্ড সফরও তার ব্যতিক্রম নয়। আমাদের স্কোয়াডে প্রতিভার অভাব নেই। দেশের জন্য অসাধারণ কিছু করার সুযোগ ছেলেরা সহজে হাতছাড়া করতে চাইবে না।’ কোচ বা ক্যাপ্টেন যতই আশ্বাস দিক, ইংল্যান্ডের মতো কঠিন সফরের আগে কোহলি-রোহিতের টেস্ট থেকে অবসর টিম ইন্ডিয়ার কাছে বড় ধাক্কা। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, তাঁদের অনুপস্থিতিতে ব্যাটিং অর্ডারই বা কী হবে? গিলের উত্তর, ‘সত্যি বলতে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ আমার কাছে গর্বের। ইংল্যান্ডের বাজবলের বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে আমরা ভালো ফল করেছিলাম। তারই পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাই। আর ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি। ইংল্যান্ডে গিয়ে নিজেদের মধ্যে কয়েকটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলব। তারপরই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সূত্রের খবর, ওয়ার্কলোড কমাতে ইংল্যান্ড সফরে যশপ্রীত বুমরাহ নাকি তিনটি’র বেশি টেস্ট খেলবেন না। কোন তিনটি ম্যাচে তাঁকে খেলানো হবে, সেই প্রসঙ্গে গম্ভীরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘না! এখনও ঠিক হয়নি। বুমরাহর মতো পেসারের বিকল্প পাওয়া কঠিন। সিরিজের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আমি বলেছিলাম, কারও অনুপস্থিতি অন্য কারও কাছে প্রমাণের বড় মঞ্চ।’ পাশাপাশি করুণ নায়ারের প্রশংসাও শোনা গেল গম্ভীরের মুখে। কোচের মন্তব্য, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেতে বাধ্য। তাছাড়া করুণের কাউন্টিতে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচে ওর ডাবল-সেঞ্চুরি দলের জন্য খুবই ইতিবাচক।’ শ্রেয়স আয়ারকে না রাখার প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয়। গম্ভীরের জবাব, ‘ফর্মে থাকা প্রত্যেক ক্রিকেটারই জতীয় দলে আসার যোগ্য। কিন্তু ১৮ জনের বেশি ক্রিকেটারকে স্কোয়াডে রাখতে পারি না। এর উত্তর নির্বাচক প্রধান আরও ভালো করে দিতে পারবেন।’
এদিকে, বেঙ্গালুরুতে আরসিবি’র সেলিব্রেশনে পদপৃষ্ট হয়ে ১১ জন সমর্থকের মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও মুখ খুলেছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, ‘কোনওদিনই রোড শো পছন্দ করি না। খেলোয়াড় থাকাকালীনও অপছন্দ ছিল। এখনও সিদ্ধান্তে অনড়। ট্রফি জিতে আনন্দ করা থেকে ১১টা প্রাণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে দোষ দিচ্ছি না। এই ব্যাপারে আয়োজকদের সতর্ক থাকা উচিত ছিল।’