


লন্ডন: মাথার উপর ভেসে বেড়াচ্ছে কালো মেঘ। সঙ্গে ফুরফুরে হাওয়া। পিচে সবুজের আভা। তার উপর খেপে খেপে বৃষ্টি। যে কোনও দলই চাইবে আগে ফিল্ডিং করে প্রতিপক্ষকে অল্প রানে আটকে রাখতে। স্টোকসের অবর্তমানে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিতে নামা ওলি পোপ ভারতকে ব্যাট করার আহ্বান জানাতে দেরি করেননি। চলতি সিরিজে এখনও পর্যন্ত যে ধরনের পিচে খেলা হয়েছে, সেখানে চোখে পড়েছিল ব্যাটারদের আধিপত্য। ওভাল কিছুটা ব্যতিক্রমী। বিশেষ করে প্রথম দিনের পরিবেশ-পরিস্থিতি ব্যাটিং সহায়ক ছিল না। তাই দরকার ছিল উইকেট বাঁচিয়ে পায়ের তলার জমি শক্ত করা। কিন্তু যশস্বী জয়সওয়াল সে সবের ধার ধারেন না। ওপেনারের স্লট যেন পৈতৃক সম্পত্তি ধরে নিয়েছেন। ক্রমাগত ব্যর্থতার পরেও বাঁ হাতি ব্যাটারকে কোচ গম্ভীর কেন খেলিয়ে যাবেন? অথচ প্রায় তিন বছর ধরে স্রেফ ‘সফরসঙ্গী’ হিসেবে দলের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ। বাংলা দলের ওপেনারটি আর কবে সুযোগ পাবেন?
শেষ দু’টি ম্যাচে যশস্বীর সর্বাধিক রান ৫৮। দু’বার ফিরেছেন খালি হাতে। আর ওভালে প্রথম ইনিংসে আউট হলেন ২ রানে। অ্যাটকিনসনের ডেলিভারি তাঁর পায়ে লাগার পর জোরালো আবেদন ওঠে। আম্পায়ার সাড়া দেননি। রিভিউতে প্রথম সাফল্যের মুখ দেখে ইংল্যান্ড। ওভালের আকাশের মতোই আলো-আঁধারি ধরা পড়েছে ভারতের ব্যাটিংয়ে। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে সুদর্শনকে নিয়ে লোকেশ রাহুল পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চেয়েছিলেন। ক্রমশ জমাট বাঁধছিল জুটি। কিন্তু স্রোতের বিপরীতে আচমকাই আউট হন রাহুল (১৪)। ভারতের স্কোর তখন ৩৮-২। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রোদের দেখাও মিলেছে ওভালে। তুলনায় সহজ হয়েছে ব্যাটিং। গিল ও সুদর্শনের জুটিকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। কিন্তু ২৩ ওভারের পর ঝাঁপিয়ে নামে বৃষ্টি। দৌড়ে মাঠ ছাড়েন ক্রিকেটাররা। প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষার পর শুরু হয় খেলা। ততক্ষণে গিল রেকর্ড বুকে নাম লিখে ফেলেছেন। একটি টেস্ট সিরিজে ভারতের অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক রানের মালিক তিনি। পিছনে ফেললেন কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকরকে। ১৯৭৮-৭৯ মরশুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সানি করেছিলেন ৭৩২ রান। গিল পিছিয়ে ছিলেন ১১ রানে। গাভাসকরকে টপকাতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি তাঁকে। অগ্নিপরীক্ষায় সুদর্শনও জমি শক্ত করতে সফল। এই জুটি আইপিএল কাঁপিয়েছে। মরণ-বাঁচন ম্যাচেও ইংরেজ বোলারদেরও তুলোধনা করবেন গিল-সুদর্শন, এমনটাই আশা ছিল। কিন্তু হল তার উল্টো। গিল আচমকাই রান আউট হলেন। থুড়ি, সুইসাইড করে দলকে ঠেলে দিলেন বিপদে। অ্যাটকিনসনের ডেলিভারি শর্ট কভারে ঠেলে সিঙ্গলস নিতে দৌড়ে যান ভারত অধিনায়ক। যার কোনও প্রয়োজনই ছিল না। বল অ্যাটকিনের হাতে দেখেও গিলের এই ঝুঁকিপূর্ণ দৌড় ‘ব্রেন ফেডের’ই শামিল। যা হওয়ার হল তাই। গিল রান আউট হয়ে মাঠ ছাড়লেন। দলকে ঠেলে দিলেন বিপদে।
বার বার বৃষ্টিতে সুবিধা পেয়েছে ইংল্যান্ড। চা পানের বিরতির পর সুদর্শন ও করুণ নায়ারের কাজ হয়েছে কঠিন। শেষ পর্যন্ত ১০৮ বল খেলে ৩৮ রানে টংয়ের বলে কট বিহাইন্ড হন সুদর্শন। ম্যাঞ্চেস্টারে দুরন্ত সেঞ্চুরিতে ম্যাচ বাঁচিয়েছিলেন জাদেজা। তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু জাড্ডু ম্যাজিক উধাও। টংয়ের বলে ৯ রানে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ধ্রুব জুরেলও ১৯ রানে আউট হন। তবে শেষ বেলায় করুণ নায়ার (ব্যাটিং ৫২) ও ওয়াশিংটন সুন্দরের (ব্যাটিং ১৯) মরিয়া চেষ্টায় আরও কোনও উইকেট হারাতে হয়নি। প্রথম দিনের শেষে ভারতের স্কোর ৬ উইকেটে ২০৪। শুক্রবার নায়ার-সুন্দরের কাঁধে থাকবে দলকে তিনশোর কাছাকাছি টেনে নিয়ে যাওয়ার গুরুদায়িত্ব। আর সেটা হলে শেষ টেস্ট রীতিমতো জমে যাবে।
স্কোরবোর্ড
প্রথম ইনিংসে ভারত: যশস্বী এলবিডব্লু বো অ্যাটকিনসন ২, লোকেশ বো ওকস ১৪, সুদর্শন ক স্মিথ বো টং ৩৮, গিল রান আউট ২১, নায়ার ব্যাটিং ৫২, জাদেজা ক স্মিথ বো টং ৯, জুরেল ক ব্রুক বো অ্যাটকিনসন ১৯, সুন্দর ব্যাটিং ১৯, অতিরিক্ত ৩০, মোট ৬৪ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৪। উইকেট পতন: ১০-১, ৩৮-২, ৮৩-৩, ১০১-৪, ১২৩-৫, ১৫৩-৬। বোলিং: ওকস ১৪-১-৪৬-১, অ্যাটকিনসন ১৯-৭-৩১-২, টং ১৩-৩-৪৭-২, ওভারটন ১৬-০-৬৬-০, বেথেল ২-১-৪-০।