Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শীত থাকলে থাক! না হলে চলে যাক, অতিষ্ঠ শহর

শীত থাকলে থাক! না হলে চলে যাক, অতিষ্ঠ শহর
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হঠাৎ গরম পড়ে গিয়েছিল। তারপর আবার খানিক ঠান্ডা। এরপর আবার গরম। এখন সকালের দিকে কাঠফাটা রোদ। আবার রাতে শীত ভাব। আবহাওয়া চরম খামখেয়ালি। আর এসবের কারণে নাজেহাল কলকাতা। মেট্রোয় সোয়েটার পরে উঠে পরেছিলেন স্বপন সোম। ঠেলাঠেলি করে ট্রেন থেকে নেমে রাগ-বিরক্তি ফুটে উঠল চোখেমুখে। সোয়েটার খুলে ব্যাগে ভরতে ভরতে গল্প হলেও সত্যি সিনেমার পিতৃদেবের ঢঙে বললেন, ‘ধুত্! থাকলে থাক। না থাকলে চলে যাক…’ সেন্ট্রাল স্টেশনে  সবাই তাঁর দিকে তাকালেন। কয়েকজন সুর মেলালেন, ‘ঠিক বলেছেন দাদা। আর নেওয়া যাচ্ছে না।’
Advertisement
অস্থিরমতি আবহাওয়ার কারণে মানুষের মাথা টিপটিপ। নাক বন্ধ। গায়ে ব্যথা। ঘুসঘুসে জ্বর। তাপমাত্রার এই সাপ-লুডো খেলায় পড়ে নাজেহাল দশা সবার। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, রবিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ ২৬.৫ ডিগ্রি। শুক্রবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭। অথচ তার আগের দিন অর্থাত্ বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বোচ্চ ছিল ২৮.২। ‘এই রোদের চোখরাঙানি তো পরক্ষণেই ঠান্ডার থাপ্পড়। মানুষের শরীর কত আর অত্যাচার সহ্য করতে পারে’-ধর্মতলা মেট্রো স্টেশনে দাঁড়িয়ে কাশতে কাশতে বললেন বর্ণালী মুখোপাধ্যায়। 
বাইরে প্রখর রোদ। তাতে পুড়ে মেট্রোতে উঠলে এসির কনকনে ঠান্ডা। তারপর নেমে বেরলেই আবার গরম। শিয়ালদহ স্টেশনে নেমে বইমেলা যাবেন সৌরীশ ঘোষাল। ক্লান্তিতে বসে পড়ে বললেন, ‘ঠান্ডা-গরমের পাল্লায় পড়ে শরীরের অবস্থা খারাপ। কাল অফিস। কীভাবে যাব কে জানে? খুবই বিপদে পড়েছি।’ আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর এর মধ্যে জানাল, সল্টলেকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সল্টলেকে বইমেলার ময়দানেও ঘাম মুছতে মুছতে চলল বই কেনাবেচা। হাওয়া দপ্তর এর মধ্যে বলে দিল, আগামী কয়েকদিন এমন শীতল পরিস্থিতিই থাকবে। তবে তরুণ-তরুণীরা আরও ঠান্ডা চাইছেন। ভালোবাসার সপ্তাহে পা রেখেছে ফেব্রুয়ারি। ভ্যালেন্টাইন’স ডে এল বলে। তখন হৃদয়ে থাকবে উষ্ণতার ছোঁয়া আর আবহাওয়া থাকবে শীতল, তবে না জমবে প্রেম। কিন্তু তাঁদের নিরাশ করে ‘সেসময় উষ্ণ হয়েই থাকবে আবহাওয়া’ পূর্বাভাস শুনিয়ে দিয়েছে হাওয়া অফিস। 
পার্ক স্ট্রিটে পাক খেতে থাকা তরুণ বললেন, ‘ঠান্ডা থাক। গরম ভালো লাগে না।’ চাকুরিজীবী মানুষের এখন বড় জ্বালা। রবিবার অফিস করতে আসা বেহালার অনির্বাণ চক্রবর্তী বললেন, ‘সকালে বেরনোর সময় একটা সোয়েটার হাতে নিয়ে আসতে হয় এখন। কয়েকদিন আগে তো সোয়েটার তুলেই দিয়েছিলাম। আজ আবার বের করতে হল। রাতে বাড়ি ফেরার সময় ঠান্ডা লাগে। সেই ঠান্ডা লেগেই তো খারাপ হল শরীরটা।’ কলকাতা একা ভুগছে না। এক অবস্থা শহরতলিরও। সর্বনিম্ন তাপমাত্রার নিরিখে দমদম ১৫.৬, উলুবেড়িয়ায় ১৩.৮, ডায়মন্ডহারবার ১৪.৬, কল্যাণী ১০.৯ ও ক্যানিং ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঘোরাফেরা করছে। 
সিজন চেঞ্জ কাকে বলে তা হাড়েহাড়ে টের পাইয়ে দিচ্ছে ২০২৫ সালের শীতকাল। সারারাত ঠান্ডায় রাতে কেঁপে-দিনে ঘাম মুছে বলছে কলকাতা। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ